81°F শুক্রবার, ০৭ আগস্ট ২০২৬, ০৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মেনু

আদাবরে এমব্রয়ডারি কারখানায় সশস্ত্র হামলা, পাঁচজন কারাগারে

বস্টন বাংলা অনলাইন ডেস্ক, Boston Bangla

প্রকাশ: ২২ ফেব ২০২৬ | নিউজটি দেখেছেন: ১৩১
আদাবরে এমব্রয়ডারি কারখানায় সশস্ত্র হামলা, পাঁচজন কারাগারে

আদাবরে এমব্রয়ডারি কারখানায় সশস্ত্র হামলা, পাঁচজন কারাগারে

রাজধানীর আদাবর এলাকার একটি এমব্রয়ডারি কারখানায় সশস্ত্র হামলার ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আহত হয়েছেন দুই শ্রমিক। হামলার প্রতিবাদে রাতেই থানা ঘেরাও করেন কারখানার শ্রমিকেরা।

শনিবার রাত আটটার দিকে মুনসুরাবাদ হাউজিংয়ের ১২ নম্বর সড়কে অবস্থিত আবির এমব্রয়ডারি নামের কারখানায় ৮–১০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। হামলায় কারখানার কর্মচারী মো. তোফায়েল (২৮) ও হাফিজ আহমেদ (৪৪) গুরুতর আহত হন। তাঁদের উদ্ধার করে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর)-এ ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনার পর কারখানার মালিক মোস্তাফিজুর রহমান বাদী হয়ে আদাবর থানা-য় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় আটজনকে নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৮–১০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। গ্রেপ্তার পাঁচজনকে রোববার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন রোহান খাঁন রাসেল (৩০), মারুফ (৩৫), হাসান (২৩), মো. রায়হান (২২) ও মো. রোমান (২৪)। পুলিশের দাবি, রোহান খাঁন রাসেল ওরফে কালা রাসেল স্থানীয় একটি সন্ত্রাসী দলের নেতৃত্ব দেন এবং তাঁর নেতৃত্বেই এ হামলা হয়েছে।

আদালতে দেওয়া আবেদনে বলা হয়, রাসেল আদাবর থানার সুনিবিড় হাউজিং সোসাইটি ও শ্যামলী হাউজিং দ্বিতীয় প্রকল্প এলাকার বালুর মাঠ কেন্দ্র করে একটি কিশোর গ্যাং পরিচালনা করেন। তাঁর দলের বিরুদ্ধে এলাকায় ছিনতাই ও চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় ছিনতাই ও চাঁদাবাজির ঘটনা বেড়েছে। বিশেষ করে এমব্রয়ডারি কারখানার শ্রমিকদের লক্ষ্য করে মুঠোফোন ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। শুক্রবারও কারখানার দুই শ্রমিকের কাছ থেকে তিনটি মুঠোফোন ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

কারখানার শ্রমিকদের ভাষ্য, শনিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে কাজ শেষে বেতন নিয়ে বের হওয়ার সময় কয়েকজন তাঁদের পথরোধ করে। ভয়ে শ্রমিকেরা কারখানায় ফিরে গেলে হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়ে। বাধা দিতে গেলে দুই শ্রমিককে কুপিয়ে আহত করা হয়।

এ ঘটনার বিচার দাবিতে মধ্যরাতে থানার সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকেরা। পরে অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামিসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

মামলার তদন্ত চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এ বিষয়ে মোহাম্মদপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) জুয়েল রানা বলেন, ছিনতাইকারী চক্র দমনে পুলিশ নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে কেউ যেন আইনশৃঙ্খলা অবনতির সুযোগ নিতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছে।