মধ্যপ্রাচ্যে দ্রুত অবনতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদারে আরব ও ইসলামী দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এক জরুরি বৈঠক শুরু হয়েছে। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শান্তি ও স্থিতিশীলতা সমর্থনে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে পরামর্শ ও সমন্বয় আরও গভীর করাই এ বৈঠকের প্রধান উদ্দেশ্য।
বুধবার অনুষ্ঠিত এই বৈঠক এমন এক সময় শুরু হলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। সৌদি ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর ইরান ধারাবাহিকভাবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ, ইসরায়েল এবং এ অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনা।
রয়টার্স জানিয়েছে, বৈঠকে মিসর, জর্ডান, কাতার, কুয়েত, পাকিস্তান, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, সিরিয়া ও আজারবাইজানসহ একাধিক দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে সংঘাতের বিস্তার ঠেকানো, আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষা এবং কূটনৈতিক সমন্বয় জোরদারের উপায় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।
সংকটের প্রভাব ইতোমধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলের বেসামরিক অবকাঠামোতেও পড়েছে। সাম্প্রতিক হামলার কারণে দুবাই, দোহা এবং আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন ও জ্বালানি অবকাঠামো হুমকির মুখে পড়েছে, আর তেলবাজারেও দেখা দিয়েছে তীব্র অস্থিরতা। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্যমতে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে জ্বালানির দামে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে এবং আঞ্চলিক বাণিজ্য ও পরিবহন কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।
রিয়াদের এই বৈঠক থেকে তাৎক্ষণিক কোনো যৌথ ঘোষণা আসবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে কূটনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে, চলমান সংঘাতের বিস্তার রোধে আরব ও ইসলামী দেশগুলোর মধ্যে একটি সমন্বিত অবস্থান গড়ে তোলাই হবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
আপনার বিজ্ঞাপন এখানে