72°F বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মেনু

বাংলাদেশে একদিনে রেকর্ড দরপতন: সোনার দাম ভরিতে কমেছে ১৫ হাজার টাকার বেশি

বস্টন বাংলা, Boston Bangla

প্রকাশ: ১৯ মার্চ ২০২৬ | নিউজটি দেখেছেন: ২৩
বাংলাদেশে একদিনে রেকর্ড দরপতন: সোনার দাম ভরিতে কমেছে ১৫ হাজার টাকার বেশি

মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দেশের বাজারে সোনার দাম দুই দফায় কমিয়েছে Bangladesh Jewellers Association (বাজুস)। এতে একদিনেই প্রতি ভরিতে মোট ১৫ হাজার ৩৩৮ টাকা পর্যন্ত দরপতন হয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ে একদিনে সর্বোচ্চ পতন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

নতুন দর অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম নেমে এসেছে ২ লাখ ৪৬ হাজার ৯২৭ টাকায়। একই দিনে ২১ ক্যারেট, ১৮ ক্যারেট এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দামও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

বাজুস জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় প্রথম দফায় এবং বিকেল পৌনে চারটায় দ্বিতীয় দফায় দাম সমন্বয় করা হয়। এর আগে বাজারে এক ভরিতে এত বড় পতনের নজির নেই বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা।

বিশ্ববাজারে দরপতনের প্রভাবে স্থানীয় বাজারে এই পরিবর্তন এসেছে বলে জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স সোনার দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার দামও হ্রাস পায়।

বিশ্ববাজারে Gold-এর দামের এই পতন মূলত যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার নীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা ও ডলারের শক্তিশালী অবস্থানের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

বাজার তথ্য অনুযায়ী, একই দিনে প্রতি আউন্স সোনার দাম প্রায় ২০৫ ডলার কমে ৪ হাজার ৬৮৬ ডলারে দাঁড়ায়, যা বৈশ্বিক বাজারে বড় ধরনের সংশোধন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নতুন তালিকায় ২১ ক্যারেট সোনা ২ লাখ ৩৫ হাজার ৬৭১ টাকা, ১৮ ক্যারেট ২ লাখ ২ হাজার ২০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনা ১ লাখ ৬৪ হাজার ৫২১ টাকায় নেমে এসেছে।

এর আগে গতকাল পর্যন্ত ২২ ক্যারেট সোনার দাম ছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ২৬৫ টাকা। একদিনের ব্যবধানে মোট পতন দাঁড়িয়েছে রেকর্ড পর্যায়ে।

বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা এবং বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকিহ্রাস প্রবণতা সোনার বাজারে চাপ সৃষ্টি করছে। সাধারণত সুদের হার বাড়লে সোনার চাহিদা কমে যায়, কারণ এতে কোনো সুদ বা রিটার্ন পাওয়া যায় না।

একই সঙ্গে রুপার বাজারেও পতন দেখা গেছে। দুই দফায় ভরিতে ৭০০ টাকা কমে ২২ ক্যারেট রুপার দাম দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৩৬৫ টাকায়।

বাজুসের দাম নির্ধারণ কমিটির চেয়ারম্যানের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে আরও সংশোধন হলে স্থানীয় বাজারে সোনার দাম আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে, যদিও দীর্ঘমেয়াদে আবার অস্থিরতা ফিরে আসতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।