বাংলাদেশে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন নিয়ে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক অচলাবস্থার সমাধান জাতীয় সংসদের ভেতরেই হওয়া উচিত বলে মত দিয়েছে বিরোধী দল। তবে সংসদে সমাধান না হলে রাজপথে আন্দোলনে নামার ইঙ্গিত দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা।
রোববার বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনের কার্যক্রম শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিরোধীদলীয় নেতা ও Shafiqur Rahman এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, নতুন সরকার গঠনের পর সংসদের অধিবেশন শুরু হলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন এখনো ডাকা হয়নি। সংসদের প্রথম দিনের কার্যসূচি সীমিত ছিল এবং একটি ইস্যুতে বিরোধী দল ওয়াকআউটও করে। সে সময় তারা বিষয়টি উত্থাপন করলেও তা আলোচনায় আসেনি।
বিরোধীদলীয় নেতা জানান, অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনের শুরুতে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিরোধী দল বিষয়টি আবারও তুলেছে। তিনি বলেন, সংসদে “জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ” পুরোপুরি পড়ে শোনানো হলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের কার্যক্রম নিয়ে এখনো স্পষ্টতা নেই।
শফিকুর রহমান বলেন, বিরোধী দলের পক্ষ থেকে কয়েকটি প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—যাঁরা ইতিমধ্যে সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন তাঁদের অবস্থান কী হবে, যাঁরা শপথ নেননি তাঁরা কবে শপথ নেবেন, এবং পরিষদের অধিবেশন কবে ডাকা হবে। পাশাপাশি গণভোটের ফলাফল কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে কি না—সেটিও জানতে চাওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, বিষয়টি উত্থাপনের পর সংসদের স্পিকার বলেছেন, নির্দিষ্ট নোটিশ দিলে তা বিবেচনা করে আলোচনার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। সে অনুযায়ী বিরোধী দল সংসদের ভেতরেই একটি আনুষ্ঠানিক নোটিশ দিতে যাচ্ছে।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “আমরা চাই সমস্যার সমাধান সংসদের ভেতরেই হোক। কিন্তু যদি সেখানে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন না ঘটে, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই আমাদের রাজপথে যেতে হবে। যদিও আমরা সেটি চাই না।”
সংবিধান ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ২০২৬ সালের নির্বাচনের বিষয়টি সংবিধানে সরাসরি উল্লেখ ছিল না এবং তা একটি প্রেসিডেনশিয়াল আদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়েছে। তাঁর মতে, একই আদেশের এক অংশকে মানা আর অন্য অংশকে না মানা হলে তা সাংবিধানিক দ্বৈত মানদণ্ডের প্রশ্ন তুলতে পারে।
শফিকুর রহমান বলেন, গণভোটের মাধ্যমে জনগণের মতামত নেওয়া হয়েছে এবং সেটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া উচিত। তাঁর ভাষায়, “জনমতই শেষ পর্যন্ত সর্বোচ্চ সংবিধান।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, গণভোটের সময়সূচি নিয়ে বিরোধী দলের প্রস্তাব ছিল আগে আয়োজন করার, আর সরকারের প্রস্তাব ছিল নির্বাচনের সঙ্গে একই দিনে আয়োজন করা। শেষ পর্যন্ত সরকারের প্রস্তাবই বাস্তবায়িত হয়েছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে বিরোধী দলের আপত্তি বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিতর্ক হিসেবে সামনে এসেছে।
আপনার বিজ্ঞাপন এখানে