ঢাকার ধানমন্ডির আবাহনী মাঠে প্রতিষ্ঠার এক বছর পূর্তি উদ্যাপন করল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। শনিবার বিকেলে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, বিশিষ্ট চিন্তক এবং দলীয় নেতা–কর্মীরা অংশ নেন। আলোচনা সভা ও ইফতারের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী কর্মসূচি সম্পন্ন হয়।
২০২৪ সালের জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে আত্মপ্রকাশ ঘটে এনসিপির রাজনৈতিক যাত্রার। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্ব থেকে উঠে আসা তরুণ নেতাদের উদ্যোগে ২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে দলটির আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ হয়।
এরপর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে অংশ নেয় এনসিপি এবং ছয়টি আসনে জয়লাভ করে। প্রথমবারের মতো নির্বাচনে অংশ নিয়ে এই ফলাফলকে দলটির জন্য তাৎপর্যপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, প্রতিষ্ঠার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি হলেও তাদের পথচলা শুরু হয়েছিল জুলাই গণ–অভ্যুত্থান থেকেই। তিনি বলেন, সংসদ নির্বাচনে ছয়টি আসনে বিজয় অর্জন গুরুত্বপূর্ণ হলেও দল এতে সন্তুষ্ট নয়। ভবিষ্যতে এ অর্জন আরও বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম নেতা–কর্মীদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান এবং তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি সংস্কার ও বিচারের দাবিতে দল সরব থাকবে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, এক বছরে এনসিপি রাজনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। নির্বাচনী সমঝোতা ও জোটের মধ্য দিয়ে জাতীয় সংসদে ছয়টি আসন পাওয়া দলটির জন্য বড় অর্জন। ভবিষ্যতে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
ইফতার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া মো. গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নিয়ে এনসিপি যে ফলাফল অর্জন করেছে, তা তারুণ্যের শক্তি ও জনসমর্থনের প্রমাণ। জনগণের রায় বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বানও জানান তিনি।
এছাড়া স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সড়ক পরিবহন, রেলপথ ও নৌমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শুভেচ্ছা জানান।
অনুষ্ঠান শুরু হয় পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে। জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে বক্তব্য দেন শহীদ আহনাফ আবির আশরাফুল্লাহর বোন সাইয়্যেদা আক্তার। পরে এনসিপির এক বছরের কার্যক্রম ও রাজনৈতিক যাত্রাপথ নিয়ে নির্মিত একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
বছরপূর্তির এ আয়োজনে দলীয় নেতা–কর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে সম্ভাব্য সমঝোতা ও সহযোগিতার ইঙ্গিত হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
এক বছরে সীমিত অর্জন সত্ত্বেও বড় লক্ষ্য সামনে রেখে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়—এই বার্তাই স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান।
আপনার বিজ্ঞাপন এখানে