77°F মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মেনু

ঢাকার যানজট কমাতে জরুরি পদক্ষেপ

বস্টন বাংলা অনলাইন ডেস্ক, Boston Bangla

প্রকাশ: ২৪ মার্চ ২০২৬ | নিউজটি দেখেছেন: ১৭
ঢাকার যানজট কমাতে জরুরি পদক্ষেপ

ঢাকার যানজট কমাতে জরুরি পদক্ষেপ: সিগন্যাল অটোমেশন, বাস টার্মিনাল সরানো ও ফুটপাত দখলমুক্তের পরিকল্পনা

 রাজধানী ঢাকার দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যা নিরসনে সমন্বিত ও আধুনিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। মঙ্গলবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ বৈঠকে এ সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৈঠকে দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য স্বল্পমেয়াদি পদক্ষেপের পাশাপাশি মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, প্রাথমিক পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে এপ্রিলের শেষ নাগাদ যানজট পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হতে পারে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঢাকার ট্রাফিক সিগন্যালগুলো ধাপে ধাপে দেশীয় প্রযুক্তির মাধ্যমে অটোমেশন করা হবে। প্রথম পর্যায়ে ১২০টি সিগন্যাল আধুনিকায়নের আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে রাজধানীর চারপাশে নতুন বাইপাস সড়ক নির্মাণ এবং শহরের ভেতরে ওভারপাস ও আন্ডারপাস তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

যানজটের অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত অনিয়ন্ত্রিত বাস কাউন্টারগুলো অপসারণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া মহানগরের ভেতরে অবস্থিত পাঁচটি আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল দ্রুত শহরের বাইরে স্থানান্তর করা হবে। এসব টার্মিনাল পরবর্তীতে সিটি সার্ভিস পরিচালনায় ব্যবহৃত হবে।

সড়ক ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে রাস্তার দুই পাশ দখলমুক্ত করা, সড়কের মাঝখানে থাকা বিদ্যুতের খুঁটি সরিয়ে নেওয়া এবং রেলক্রসিংগুলোতে অটোমেটেড সিগন্যাল লাইটিং চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। পাশাপাশি সিটি বাসগুলোকে জিপিএস ব্যবস্থার আওতায় এনে চলাচল পর্যবেক্ষণ জোরদার করা হবে।

পথচারীদের সুবিধা বাড়াতে অধিকাংশ ফুটওভার ব্রিজে চলন্ত সিঁড়ি স্থাপন এবং হাসপাতালসংলগ্ন এলাকায় লিফট সংযোজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

বৈঠক শেষে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম জানান, স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে এবং সেগুলো বাস্তবায়নে পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী এক মাসের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন সম্ভব হবে।

অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন বলেন, ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এক সপ্তাহের মধ্যে স্থানীয়ভাবে অগ্রাধিকারভিত্তিক পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে তা বাস্তবায়ন শুরু হবে।

বৈঠকে অটোরিকশা ব্যবস্থাপনা নিয়েও আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, চালকদের বিকল্প কর্মসংস্থানের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে ধীরে ধীরে এ খাতকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সভার আলোচনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী, রেল প্রতিমন্ত্রী, সিটি করপোরেশনের প্রশাসকরা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।