দমন-পীড়নের কারণেই জামায়াতের উত্থান-মির্জা ফখরুল
গত দেড় দশক ধরে বিরোধী রাজনীতির ওপর দমন-পীড়নের ফলেই দেশে জামায়াতে ইসলামীর উত্থান ঘটেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার সকালে ঠাকুরগাঁও শহরের কালীবাড়ি এলাকায় নিজ বাসভবনে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
জামায়াতে ইসলামীর উত্থান নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে ‘ফ্যাসিবাদী শাসন’ চললে এবং গণতান্ত্রিক পরিসর সংকুচিত হলে উগ্রপন্থী শক্তিগুলো মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে-এটি রাজনৈতিক বিজ্ঞানের স্বাভাবিক বাস্তবতা। তাঁর দাবি, বিরোধী দলকে কার্যক্রম পরিচালনা ও নির্বাচনে অংশ নিতে বাধা দেওয়ার পরিবেশ তৈরি হওয়ায় বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
বিএনপির মহাসচিব বলেন, জনগণ ইতিমধ্যে চরমপন্থী রাজনীতিকে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। তিনি এটিকে ‘ল্যান্ডস্লাইড বিজয়’ উল্লেখ করে বলেন, রাষ্ট্র সংস্কার, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ও ৩১ দফা কর্মসূচির প্রতি জনগণের সমর্থনই এই ফলাফলের ভিত্তি।
জাতীয় সরকার গঠনের বিষয়ে তিনি জানান, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে যারা বিএনপির সঙ্গে ছিল এবং নির্বাচনে যারা অংশীদার হয়েছে, তাদের নিয়েই সরকার গঠন করা হবে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যে অংশগুলোতে বিএনপি স্বাক্ষর করেছে, সেগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা হবে এবং ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচিও পর্যায়ক্রমে কার্যকর করা হবে।
রংপুর বিভাগে জামায়াতে ইসলামীর তুলনামূলক বেশি আসন পাওয়ার প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, এর পেছনে নানা কারণ রয়েছে। তবে বৃহত্তর দিনাজপুর অঞ্চলের তিন জেলা ও ১১টি আসনে বিএনপি বিজয়ী হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ভবিষ্যতে জনগণের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ ও সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করলে এই প্রবণতা মোকাবিলা করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
এ সময় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, সাবেক সহসভাপতি আবু তাহের, পৌর বিএনপির সভাপতি শরিফুল ইসলামসহ দলীয় নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আপনার বিজ্ঞাপন এখানে