যুক্তরাষ্ট্র ইরানে ‘বড় ধরনের সামরিক অভিযান’ শুরু করেছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এই অভিযানে মার্কিন সেনাদের প্রাণহানিও ঘটতে পারে।
শনিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় ট্রাম্প বলেন, তাঁর প্রশাসন এই অঞ্চলে মার্কিন কর্মীদের ঝুঁকি কমাতে সম্ভাব্য সব পদক্ষেপ নিয়েছে। তবুও তিনি স্বীকার করেন, যুদ্ধে ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। তাঁর ভাষায়, “সাহসী আমেরিকান বীরদের জীবন যেতে পারে, কিন্তু আমরা ভবিষ্যতের জন্য এই পদক্ষেপ নিচ্ছি।”
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর Pentagon জানিয়েছে, অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’। ট্রাম্পের দাবি, এই অভিযানের লক্ষ্য ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা ধ্বংস করা এবং তাদের নৌবাহিনীকে অকার্যকর করে দেওয়া।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এবারের হামলা কয়েক দিন ধরে চলতে পারে। গত জুনে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছিল; এবারের অভিযান তার চেয়ে বিস্তৃত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইসরায়েলি হামলার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রও ইরানে আঘাত হানছে। জবাবে তেহরান ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বলে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে। ইরানি এক কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, তাদের প্রতিক্রিয়া হবে ‘ভয়াবহ’।
ট্রাম্প ইরানের সশস্ত্র বাহিনী Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি)–এর সদস্যদের অস্ত্র নামিয়ে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আত্মসমর্পণ করলে তাদের ক্ষমা করা হবে; অন্যথায় ‘নিশ্চিত মৃত্যু’ অপেক্ষা করছে।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একাধিক দফা আলোচনা হলেও কোনো সমঝোতা হয়নি। ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ইরান বারবার তাদের পারমাণবিক আকাঙ্ক্ষা ত্যাগের সুযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। তাঁর বক্তব্য, “আমরা এটি আর মেনে নিতে পারি না।”
ট্রাম্প ইরানি জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অভিযান শেষ হলে তারা যেন নিজেদের সরকার দখল করে নেয়। তাঁর দাবি, এটি হয়তো কয়েক প্রজন্মের মধ্যে একমাত্র সুযোগ।
ইরানে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ ও সহিংসতার প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প বলেন, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর দমন–পীড়নের ঘটনা ঘটেছে। তিনি ইরানিদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দেন, কারণ “সব জায়গায়” বোমা পড়বে বলে মন্তব্য করেন।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল জোটের হামলা ও ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা এখন বিশ্বজুড়ে গভীর উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে।
আপনার বিজ্ঞাপন এখানে