পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিতে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে পর্যটকের ঢল নেমেছে। সাজেক ভ্যালিতে যাওয়ার পথে খাগড়াছড়িকে কেন্দ্র করে জেলার বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র, হোটেল-মোটেল ও রেস্তোরাঁগুলোতে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে অবস্থিত সাজেক ভ্যালিতে সড়কপথে খাগড়াছড়ি হয়ে যেতে হয়। নির্দিষ্ট সময়সূচির কারণে সাজেকগামী পর্যটকদের অনেকেই খাগড়াছড়িতে এক রাত অবস্থান করেন। ফলে এখানকার পাহাড়, ঝরনা, লেক ও সবুজ প্রকৃতিঘেরা পর্যটনকেন্দ্রগুলোতেও ভিড় বাড়ছে দিন দিন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদের পরের দুই দিন জেলার কোনো হোটেল বা মোটেলে কক্ষ খালি ছিল না। আলুটিলা পর্যটনকেন্দ্র, উদ্যান পার্ক, দেবতা পুকুর, মায়াবিনী লেক, পানছড়ির শান্তিপুর অরণ্য কুটিরসহ সব দর্শনীয় স্থানে ছিল মানুষের ঢল। পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে এসব স্থানে নতুন সাজও যুক্ত করা হয়েছে।
যানবাহন মালিক সমিতির লাইনম্যান সৈকত চাকমা জানান, ঈদের ছুটিতে সমিতির সব পর্যটকবাহী গাড়ি আগেই বুকিং হয়ে যায়। অনেক পর্যটক গাড়ি না পেয়ে ব্যক্তিগত গাড়ি, মাইক্রোবাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশায় গন্তব্যে গেছেন। তিনি আরও জানান, ২৬ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্তও প্রায় সব গাড়ির বুকিং সম্পন্ন হয়েছে।
হোটেল কর্তৃপক্ষও জানিয়েছেন একই চিত্র। গাইরিং হোটেলের ব্যবস্থাপক প্রান্ত ত্রিপুরা বলেন, গত দুই দিন সব কক্ষ পূর্ণ ছিল। কক্ষ খালি না থাকায় অনেক পর্যটককে ফিরিয়ে দিতে হয়েছে। সামনে কয়েক দিনের জন্যও অধিকাংশ কক্ষ আগাম বুকিং হয়ে গেছে।
পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে প্রতিদিন হাজার হাজার দর্শনার্থীর আগমন ঘটছে। আলুটিলা পর্যটনকেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক চন্দ্র কিরণ ত্রিপুরা জানান, ঈদের পর থেকেই প্রতিদিন পর্যটক বাড়ছে, কোনো কোনো দিনে পাঁচ হাজারের বেশি দর্শনার্থী এসেছে। উদ্যান পার্কের টিকিট পরীক্ষক মো. ইউসুফ বলেন, ঈদের দিন দুই হাজারের বেশি এবং পরের দিনগুলোতে তিন হাজারের বেশি দর্শনার্থী এসেছেন।
ঢাকা থেকে ঘুরতে আসা এক পর্যটক আজিম উল হাসান বলেন, পাহাড়ের চূড়া থেকে শহরের দৃশ্য সত্যিই অসাধারণ, যা ভ্রমণকে আরও স্মরণীয় করে তোলে।
পর্যটকের ভিড়ে খুশি স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও। এক পাহাড়ি রেস্তোরাঁর কর্মী আচিং মারমা জানান, ঈদের পর থেকেই তাদের রেস্তোরাঁয় জায়গা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে, অনেকেই আগেই খাবারের জন্য নাম লিখিয়ে রাখছেন।
এদিকে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নজরদারি জোরদার করেছে পর্যটন পুলিশ। তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ সব স্থানে সার্বক্ষণিক টহল রয়েছে এবং জরুরি প্রয়োজনে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সামনের ছুটির দিনগুলোতেও পর্যটকের এই চাপ অব্যাহত থাকবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আপনার বিজ্ঞাপন এখানে