59°F শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মেনু

গাজা ‘শান্তি পর্ষদ’-এর প্রথম বৈঠকের পরিকল্পনা হোয়াইট হাউসের, ফেব্রুয়ারিতে বৈঠক হতে পারে

বস্টন বাংলা অনলাইন ডেস্ক, Boston Bangla

প্রকাশ: ০৭ ফেব ২০২৬ | নিউজটি দেখেছেন: ১৭
গাজা ‘শান্তি পর্ষদ’-এর প্রথম বৈঠকের পরিকল্পনা হোয়াইট হাউসের, ফেব্রুয়ারিতে বৈঠক হতে পারে

গাজা ‘শান্তি পর্ষদ’-এর প্রথম বৈঠকের পরিকল্পনা হোয়াইট হাউসের, ফেব্রুয়ারিতে বৈঠক হতে পারে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে গঠিত গাজা বিষয়ক ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি পর্ষদের নেতাদের প্রথম বৈঠক আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে হোয়াইট হাউস। আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানিয়েছে একাধিক কূটনৈতিক সূত্র। চার সদস্যদেশের কূটনীতিক ও একজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে এই তথ্য প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউসের পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রস্তাবিত বৈঠকে গাজা উপত্যকার পুনর্গঠনের জন্য আন্তর্জাতিক তহবিল সংগ্রহের বিষয়টি আলোচনায় আসতে পারে। তবে বৈঠকের সময়সূচি ও আয়োজন এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী এতে পরিবর্তন আসতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।

অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে অবস্থিত ইউএস ইনস্টিটিউট অব পিসে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে ১৮ ফেব্রুয়ারি হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর একটি বৈঠক নির্ধারিত আছে বলে জানা গেছে। অর্থাৎ, শান্তি পর্ষদের বৈঠকের এক দিন আগেই ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মুখোমুখি আলোচনার কথা রয়েছে।

শান্তি পর্ষদের সম্ভাব্য বৈঠক নিয়ে মন্তব্য জানতে রয়টার্স হোয়াইট হাউস ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

গত জানুয়ারির শেষ দিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বোর্ড অব পিস’ গঠন করেন। এই পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি নিজেই। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতের সমাধান খুঁজে বের করাই এই পর্ষদ গঠনের মূল উদ্দেশ্য। তবে শুরু থেকেই এ উদ্যোগ নিয়ে বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। অনেক বিশেষজ্ঞের আশঙ্কা, এই ধরনের পর্ষদ জাতিসংঘের ভূমিকা ও প্রভাবকে দুর্বল করতে পারে।

ট্রাম্প বিশ্বের বিভিন্ন দেশকে এই শান্তি পর্ষদে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ কয়েকটি মিত্র দেশ এতে অংশ নিলেও পশ্চিমা মিত্রদের একটি বড় অংশ এখনো এ উদ্যোগে যুক্ত হয়নি। কিছু দেশ আমন্ত্রণের বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।

গত বছরের নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়, যেখানে এই শান্তি পর্ষদকে অনুমোদন দেওয়া হয়। ওই প্রস্তাবে গাজায় একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী গঠনের অনুমতিও দেওয়া হয়। এর আগে গত অক্টোবর মাসে ট্রাম্পের একটি প্রস্তাবের ভিত্তিতে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের মধ্যে একটি নাজুক অস্ত্রবিরতি শুরু হয়।

যদিও গত অক্টোবর থেকে গাজায় আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, তবে বিভিন্ন সময় ইসরায়েলের পক্ষ থেকে তা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। যুদ্ধবিরতির মধ্যেই চালানো হামলায় অক্টোবর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত ৫৫০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নাগরিক এবং চারজন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন।

এর আগে, ২০২৩ সালের শেষ দিক থেকে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলায় ৭১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। টানা হামলার ফলে গাজায় তীব্র খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে এবং প্রায় পুরো জনগোষ্ঠী বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের গাজা বিষয়ক পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই শান্তি পর্ষদের অন্যতম দায়িত্ব হলো গাজার একটি অস্থায়ী প্রশাসন তদারক করা। পরবর্তীতে ট্রাম্প জানান, বোর্ডটির কার্যপরিধি আরও বিস্তৃত করা হয়েছে এবং এটি বৈশ্বিক সংঘাত মোকাবিলায়ও ভূমিকা রাখবে।

তবে মানবাধিকার সংগঠন ও অধিকারবিশেষজ্ঞদের একাংশ এই উদ্যোগের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তাঁদের মতে, কোনো বিদেশি ভূখণ্ডের প্রশাসন তদারকিতে ট্রাম্পের নেতৃত্বে একটি বোর্ড গঠন করা উপনিবেশিক মানসিকতার প্রতিফলন। এ ছাড়া এই বোর্ডে কোনো ফিলিস্তিনি প্রতিনিধির অন্তর্ভুক্তি না থাকায় সমালোচনা আরও জোরালো হয়েছে।