76°F বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মেনু

গণভোট নিয়ে বিএনপিকে কড়া বার্তা জামায়াত আমিরের, ‘জনগণের রায় অস্বীকার করলে খেসারত দিতে হবে’

বস্টন বাংলা অনলাইন ডেস্ক, Boston Bangla

প্রকাশ: ২৫ মার্চ ২০২৬ | নিউজটি দেখেছেন: ১৯
গণভোট নিয়ে বিএনপিকে কড়া বার্তা জামায়াত আমিরের, ‘জনগণের রায় অস্বীকার করলে খেসারত দিতে হবে’

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ইস্যুতে বিএনপির উদ্দেশে কঠোর অবস্থান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে জামায়াত কোনো আপস করবে না এবং জনগণের রায় অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

বুধবার বিকেলে ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখা।

গণভোট প্রসঙ্গে বিএনপির অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলে শফিকুর রহমান বলেন, সংবিধানের এক অংশ মানা আর অন্য অংশ না মানা—এটি গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি রূপক উদাহরণ দিয়ে বলেন, একই প্রক্রিয়ায় হওয়া সিদ্ধান্তের একটি অংশ গ্রহণ করে অন্য অংশ প্রত্যাখ্যান করা যুক্তিসঙ্গত নয়। তার মতে, জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে, তবে মানুষ সবই বোঝে।

তিনি আরও বলেন, অতীতেও কিছু বিষয়ে আপত্তি থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা মেনে নিতে হয়েছে এবং এবারও জনগণের রায় উপেক্ষা করা সম্ভব হবে না। জনগণের ভোটের অধিকার নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে জামায়াত আমির অভিযোগ করেন, সংবিধানের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় সরকারে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের বদলে দলীয় আনুগত্যের ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, যা সংবিধানবিরোধী। এ ধরনের সিদ্ধান্ত জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।

দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, শাসক পরিবর্তন হলেও শোষণের ধারা পরিবর্তন হয়নি। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য জনগণ সহনশীলতা দেখালেও প্রশাসনে বিভিন্নভাবে হস্তক্ষেপ বাড়ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে শফিকুর রহমান বলেন, পাকিস্তান আমলে বৈষম্য ও অবিচারের কারণে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ অনিবার্য হয়ে উঠেছিল। তিনি দাবি করেন, তখনকার শাসকগোষ্ঠী জনগণের রায় অগ্রাহ্য করে দমন-পীড়নের পথ বেছে নিয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত জনগণের আকাঙ্ক্ষা বিজয়ী হয়।

স্বাধীনতার পর প্রত্যাশিত পরিবর্তন না আসার জন্য নেতৃত্বের ব্যর্থতা, দুর্নীতি ও অদূরদর্শিতাকে দায়ী করেন তিনি। তার ভাষায়, শুধু অর্থনৈতিক দুর্নীতিই নয়, মানুষের অধিকার হরণ ও অযোগ্যদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোও বড় ধরনের দুর্নীতি।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য আবদুস সবুর ফকির। এতে আরও বক্তব্য দেন এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব।