83°F শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মেনু

গৌরীপুরে আধুনিক সুইমিং কমপ্লেক্স নির্মাণের দাবি: সোচ্চার তরুণ সমাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক, Boston Bangla

প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬ | নিউজটি দেখেছেন: ১১৩
গৌরীপুরে আধুনিক সুইমিং কমপ্লেক্স নির্মাণের দাবি: সোচ্চার তরুণ সমাজ

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে একটি আধুনিক সুইমিং কমপ্লেক্স নির্মাণের দাবি সোস্যাল মিডিয়া প্রকাশ হওয়ার পর তা ক্রমান্বয়ে জোরদার হচ্ছে। স্থানীয় তরুণ প্রজন্ম, শিক্ষার্থী, ক্রীড়াপ্রেমী এবং সচেতন নাগরিক সমাজ এই দাবির পক্ষে সমর্থন  জানিয়েছেন। তাদের মতে, নিরাপদ সাঁতার শেখার সুযোগ তৈরি, পানিতে ডুবে শিশু ও কিশোরদের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু রোধ এবং স্থানীয় পর্যায়ে দক্ষ সাঁতারু গড়ে তুলতে এই অবকাঠামোগত উন্নয়ন এখন সময়ের বড় দাবি।

স্থানীয় সচেতন মহলের সাথে কথা বলে জানা যায়, গৌরীপুর উপজেলায় প্রায়ই উন্মুক্ত জলাশয় বা পুকুরে ডুবে শিশুদের মৃত্যুর মর্মান্তিক খবর পাওয়া যায়। তাছাড়া দেশের বিভিন্ন জায়গায় নৌকা ভ্রমণ করতে গিয়ে প্রায়ই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। অনেকের সাঁতার না জানার কারণে পানিতে ডুবে মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। সুতরাং নৌকাডুবি, বন্যা বা যেকোনো জলপথে দুর্ঘটনার সময় সাঁতার না জানা ব্যক্তিদের জীবনহানির ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। একটি আধুনিক ও নিরাপদ সুইমিং কমপ্লেক্স থাকলে পেশাদার প্রশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে শিশু ও নারীদের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সাঁতার শেখানো সম্ভব হতো, যা এই ধরনের দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমিয়ে আনবে।

এছাড়া, এলাকায় কোনো আনুষ্ঠানিক সাঁতার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র না থাকায় স্থানীয় তরুণরা খেলাধুলার এই গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যমটি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ক্রীড়াপ্রেমীদের মতে, একটি আধুনিক সুইমিং কমপ্লেক্স নির্মিত হলে তা কেবল শরীরচর্চা বা বিনোদনের সুযোগই বাড়াবে না, বরং তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রেখে গঠনমূলক কাজে ব্যস্ত রাখতে বড় ভূমিকা রাখবে।

স্থানীয় যুব সমাজের প্রতিনিধিরা জানান, গৌরীপুরের ক্রীড়াঙ্গনকে আরও সমৃদ্ধ করতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনের উচিত অবিলম্বে একটি সুইমিং কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া। এই বিষয়ে তারা অতি দ্রুত স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মাননীয় প্রতিমন্ত্রি ইন্জিনিয়ার এম. ইকবাল হোসেইন ও উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

গৌরীপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সহ-সভাপতি মো. লুৎফর রহমান খান খোকন বলেন, আধুনিক সুইমিং কমপ্লেক্সে শরীরচর্চা ও সাঁতার কাটার সুবিধা থাকে, যা তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও গ্যাং কালচার থেকে দূরে রেখে গঠনমূলক কাজে ব্যস্ত রাখতে সাহায্য করে। সোস্যাল মিডিয়াতে যে দাবিটি উঠেছিল তা যুক্তি সংগত। গৌরীপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন পশ্চিম দিকে একটি আধুনিক সুইমিং কমপ্লেক্স নির্মাণ করলে ক্রীড়াঙ্গনকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। এই ধরণের সুইমিং কমপ্লেক্স সৌদি আরবে দেখেছি।

ইলেক্টোরাল কমিটির সভাপতি ইন্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, সোস্যাল মিডিয়াতে বেশ কয়েকটি কাল্পনিক থ্রিডি ছবি দেখানো হয়েছে। এই হিসেবে এই প্রকল্পের নাম হতে পারে ‘ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার পৌর শহরে  গৌরীপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সুইমিং কমপ্লেক্স নির্মাণ’। যাঁরা সাঁতার জানেন না, তাঁদের জন্যই সুইমিং কমপ্লেক্সে এবং সিডিউল ও ফিস অনুযায়ী সকল স্তরের মানুষের জন্য সাঁতার শেখার ব্যবস্থা থাকতে পারে। এ ছাড়া যারা দেশ-বিদেশে সাঁতার প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে চান, তাঁরা সেখানে সাঁতার শিখতে পারবেন। সেখানে কয়েক লেনের সুইমিং পুল, সাঁতারু ড্রেসিং রুম, শৌচাগার, কার্যালয়, কনফারেন্স কক্ষ থাকতে পারে।

সরেজমিনে দেখা যা, উপজেলা পরিষদের পাশের রাস্তা দিয়ে কিছুদূর দক্ষিণে গেলে গৌরীপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় । স্কুল বাউন্ডারির পশ্চিম পাশে স্কুলের নামে একটি খালী জায়গাসহ বিশাল পুকুর পড়ে আছে। সেখানে পুকুরের উত্তর পাড়ের কিছু অংশ নিয়ে মাটি ভরাট করে সুইমিং কমপ্লেক্স নির্মাণ করা যেতে পারে। স্কলের ৯০ ভাগ মেয়েরা সাঁতার জানেন না। স্কুলের স্বার্থে  একটি প্রকল্প দেখিয়ে সুইমিং কমপ্লেক্স নির্মাণ করা যেতে পারে। নিরাপদ সাঁতার শেখার সুযোগ সৃষ্টি, পানিতে ডুবে মৃত্যু রোধ এবং তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে এই অবকাঠামোগত উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি।

গৌরীপুরের বাসিন্দা ও গৌরীপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের কোষাধ্যক্ষ ঝিন্টু দেবনাথ বলেন, গৌরীপুর উপজেলার জন্য আধুনিক মানের একটি নিরাপদ সুইমিং কমপ্লেক্স খুবই জরুরি প্রয়োজন। সেখানে তাঁদের ছেলেমেয়েরা সিডিউল অনুযায়ী সকাল হতে সন্ধ্যা পর্যন্ত নিরাপদে সাঁতার শিখতে পারবে। সাঁতার প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবে। সোস্যাল মিডিয়াতে বেশ কয়েকটি কাল্পনিক থ্রিডি ছবি দেখেছেন; সুইমিং কমপ্লেক্সের কথা শুনছেন; গৌরীপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন পশ্চিম দিকে একটি আধুনিক সুইমিং কমপ্লেক্স নির্মাণ করলে সকলের জন্য এটি নিরাপদ স্থান হবে। তাছাড়া অন্যান্য স্কুল কলেজের ছেলেমেয়েরা সাঁতার শেখার সুযোগও পাবে।’