মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। একদিকে বাহরাইনে ইরানের হামলার খবর এসেছে, অন্যদিকে তেহরানের কেন্দ্রস্থলসহ একাধিক স্থানে বিস্ফোরণের ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
রোববার (০১ মার্চ) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera–এর প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাজধানী Manama–তে অবস্থিত Crowne Plaza Bahrain হোটেলকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। এতে ভবনের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
এর আগের দিন বাহরাইন কর্তৃপক্ষ জানায়, দেশটিতে অবস্থানরত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়। ওই হামলায় মানামার অন্তত তিনটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানানো হয়।
এদিকে ইরানের রাজধানী Tehran–এর কেন্দ্রস্থলসহ সাতটি স্থানে হামলার খবর পাওয়া গেছে। আগে রাজধানীর আশপাশে হামলার ঘটনা ঘটলেও এবার শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিস্ফোরণ হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে বিমানবন্দরসংলগ্ন এলাকাও থাকতে পারে। তবে নির্দিষ্ট কোনো সামরিক স্থাপনা নাকি সরকারি দপ্তর লক্ষ্য করে আঘাত হানা হয়েছে—তা স্পষ্ট নয়। ধারণা করা হচ্ছে, বড় হোটেল ও শপিংমলের আশপাশের এলাকাগুলোও হামলার আওতায় এসেছে।
বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সংঘাত এখন তাদের বসতবাড়ির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। অনিশ্চয়তার কারণে অনেকেই খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী মজুত করতে শুরু করেছেন।
এদিকে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা Ali Khamenei নিহত হয়েছেন। তবে এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত কোনো সরকারি ঘোষণা এখনো স্পষ্টভাবে পাওয়া যায়নি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক ভিডিও বার্তায় দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার Mohammad Bagher Ghalibaf বলেন, দেশ যে কোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত। তিনি উল্লেখ করেন, নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পূর্বপরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট Donald Trump এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu–এর সমালোচনা করেন।
ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা Islamic Republic News Agency (আইআরএনএ) জানিয়েছে, সংবিধান অনুযায়ী নতুন সর্বোচ্চ নেতা মনোনীত না হওয়া পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট Masoud Pezeshkian, বিচার বিভাগের প্রধান এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন ফকিহকে নিয়ে গঠিত একটি কাউন্সিল সাময়িকভাবে দায়িত্ব পালন করবে।
ইরানের সংবিধান অনুসারে, বিশেষজ্ঞ পরিষদ (অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস) নতুন নেতা নির্বাচিত না করা পর্যন্ত এই অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা বহাল থাকবে।
সাম্প্রতিক হামলা-পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা দ্রুত বাড়ছে। বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা, সামরিক স্থাপনার ঝুঁকি এবং সম্ভাব্য আঞ্চলিক বিস্তারের আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে-তা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি।
আপনার বিজ্ঞাপন এখানে