হরমুজ প্রণালিতে ইরানের লাইভ-ফায়ার নৌমহড়া, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা চরমে
ওয়াশিংটনের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং সম্ভাব্য মার্কিন সামরিক হামলার আশঙ্কার মধ্যেই আগামী সপ্তাহে কৌশলগত হরমুজ প্রণালিতে লাইভ-ফায়ার নৌমহড়া পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বৃহস্পতিবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এই ঘোষণা এসেছে এমন এক সময়ে, যখন যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে বিমানবাহী রণতরি ‘আব্রাহাম লিংকন’সহ বিপুল সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম প্রেস টিভি জানিয়েছে, মহড়াগুলো ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর নৌবাহিনী পরিচালনা করবে। তবে প্রাথমিকভাবে মহড়ার নির্দিষ্ট সময়সূচি প্রকাশ করা হয়নি।
তবে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী রোববার থেকে হরমুজ প্রণালিতে দুই দিনব্যাপী এই লাইভ-ফায়ার নৌমহড়া শুরু হতে পারে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক এই জলপথ দিয়ে প্রতিদিন বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহন হয়, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের উদ্দেশে ‘বিশাল নৌবাহিনী’ পাঠানোর ঘোষণা দেওয়ার পাশাপাশি তেহরানকে আলোচনার টেবিলে বসার আহ্বান জানিয়েছেন। এর পর থেকেই তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
ইরানি কর্মকর্তারা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, যেকোনো ধরনের মার্কিন আক্রমণের জবাবে দ্রুত ও কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানো হবে। তবে একই সঙ্গে তারা বলেছেন, ন্যায্য, ভারসাম্যপূর্ণ এবং জোরজবরদস্তিমুক্ত শর্তে আলোচনায় বসতে তেহরান প্রস্তুত।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক আঞ্চলিক কমান্ড সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের প্রতি কড়া সতর্কবার্তা জারি করেছে। তারা জানিয়েছে, মার্কিন যুদ্ধজাহাজের ওপর দিয়ে ইরানি বিমান উড্ডয়ন বা জাহাজের কাছাকাছি স্পিডবোট চালনার মতো অনিরাপদ কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।
সেন্টকম এক বিবৃতিতে বলেছে, মার্কিন বাহিনী, আঞ্চলিক মিত্র কিংবা বাণিজ্যিক জাহাজের আশপাশে যেকোনো ধরনের অপেশাদার ও ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ সংঘর্ষ ও অস্থিতিশীলতার ঝুঁকি বাড়াবে। একই সঙ্গে তারা দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী বিশ্বের অন্যতম প্রশিক্ষিত ও শক্তিশালী বাহিনী এবং আন্তর্জাতিক আইন ও নিয়ম মেনে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। ইরানের আইআরজিসিকেও একই ধরনের আচরণ অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনী আরও জানিয়েছে, ঘোষিত মহড়ায় তাজা গোলাবারুদ ব্যবহার করা হবে বলে তারা অবগত রয়েছে। তবে এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয়, যা হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা কিংবা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, দেশটিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের উত্তেজনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সূত্র: আলজাজিরা
আপনার বিজ্ঞাপন এখানে