ইরান উত্তেজনায় কাতারে মোবাইল প্যাট্রিয়ট মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রের
ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে কাতারের আল-উদেইদ বিমানঘাঁটিতে মোবাইল ট্রাকভিত্তিক লঞ্চারে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। স্যাটেলাইট ছবির বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।
আল-উদেইদ ঘাঁটি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক স্থাপনাগুলোর একটি। বিশ্লেষকদের মতে, জানুয়ারি থেকে আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়তে থাকায় স্থির লঞ্চিং স্টেশনের পরিবর্তে এম৯৮৩ হেভি এক্সপ্যান্ডেড মোবিলিটি ট্যাকটিক্যাল ট্রাকে প্যাট্রিয়ট সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে। এতে প্রয়োজনে দ্রুত স্থান পরিবর্তন ও প্রতিরক্ষামূলক মোতায়েন সহজ হবে।
ফরেনসিক ইমেজ বিশ্লেষক উইলিয়াম গুডহাইন্ড জানান, ফেব্রুয়ারির শুরুতে ধারণ করা স্যাটেলাইট ছবিতে ট্রাক-মাউন্টেড প্যাট্রিয়ট সিস্টেম দেখা গেছে। মোবাইল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের ফলে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গতিশীলতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।
তবে মঙ্গলবার পর্যন্ত ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সংশ্লিষ্ট ট্রাকগুলোতে অবস্থান করছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বিষয়ে পেন্টাগনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্যাটেলাইট ছবির তুলনামূলক বিশ্লেষণে আরও দেখা গেছে, জানুয়ারির তুলনায় ফেব্রুয়ারিতে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতে বিমান ও সামরিক সরঞ্জামের উপস্থিতি বেড়েছে। ১ ফেব্রুয়ারির এক ছবিতে আল-উদেইদ ঘাঁটিতে একটি আরসি-১৩৫ গোয়েন্দা বিমান, তিনটি সি-১৩০ হারকিউলিস, ১৮টি কেসি-১৩৫ স্ট্র্যাটোট্যাঙ্কার এবং সাতটি সি-১৭ পরিবহন বিমান দেখা যায়। ১৭ জানুয়ারির ছবিতে ছিল ১৪টি স্ট্র্যাটোট্যাঙ্কার ও দুটি সি-১৭। একইসঙ্গে সর্বোচ্চ ১০টি এমআইএম-১০৪ প্যাট্রিয়ট এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ট্রাকে স্থাপিত ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
জর্ডানের মুয়াফফাক ঘাঁটিতে ২ ফেব্রুয়ারির ছবিতে ১৭টি এফ-১৫ই স্ট্রাইক বিমান, আটটি এ-১০ থান্ডারবোল্ট, চারটি সি-১৩০ এবং চারটি হেলিকপ্টার শনাক্ত হয়েছে। অন্য একটি স্থানে একটি সি-১৭, একটি সি-১৩০ ও চারটি ইএ-১৮জি গ্রাউলার ইলেকট্রনিক যুদ্ধবিমান দেখা গেছে।
সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান ঘাঁটির ২ ফেব্রুয়ারির ছবিতে একটি সি-৫ গ্যালাক্সি ও একটি সি-১৭ পরিবহন বিমান দেখা যায়। ডিসেম্বরের তুলনায় সেখানে বিমান উপস্থিতিতে পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে।
এছাড়া ভারত মহাসাগরের ডিয়েগো গার্সিয়ায় এবং ওমানের দুখান ঘাঁটিতেও সামরিক বিমানসংখ্যা বৃদ্ধির ইঙ্গিত মিলেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব মোতায়েন আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে প্রতিরক্ষামূলক প্রস্তুতির অংশ হতে পারে।
আপনার বিজ্ঞাপন এখানে