ইরানে ‘অপারেশন রোরিং লায়ন’: একযোগে হামলায় শীর্ষ সামরিক নেতাদের মৃত্যুর দাবি আইডিএফের
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে চালানো ‘অপারেশন রোরিং লায়ন’-এর প্রথম ধাপের হামলায় এক মিনিটের মধ্যেই প্রায় ৪০ জন শীর্ষ ইরানি সামরিক কমান্ডার নিহত হয়েছেন। রোববার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইডিএফ এ দাবি করে।
আইডিএফের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের সম্ভাব্য হুমকির প্রেক্ষিতে এটি ছিল একটি আগাম প্রতিরোধমূলক অভিযান। হামলার সূচনালগ্নে তেহরানের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত স্থাপনায় একযোগে বিমান হামলা চালানো হয়।
ইসরায়েলি বাহিনী আরও দাবি করেছে, নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায় যে ইরানের কয়েকজন শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা একটি নির্দিষ্ট স্থানে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। সেই তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করা হয়।
নিহতদের তালিকায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল আব্দুলরহিম মোসাভির নাম রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা আগেই জানতে পেরেছিল যে ইরানের শীর্ষ নেতারা শনিবার সকালে তেহরানের একটি সরকারি কমপাউন্ডে বৈঠকে বসবেন। এই তথ্য ইসরায়েলের কাছে পৌঁছানোর পর হামলার সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয় এবং সকালে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
কিছু গণমাধ্যমে আরও দাবি করা হয়েছে, হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। তবে এ বিষয়ে এখনো ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
মার্কিন সংবাদপত্র ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান খামেনির কমপাউন্ডে প্রায় ৩০টি বোমা নিক্ষেপ করে, যার ফলে স্থাপনাটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ইসরায়েল সময় শনিবার সকাল ৬টায় অভিযান শুরু হয়। তেহরান সময় সকাল প্রায় ৯টা ৪০ মিনিটে লক্ষ্যবস্তুতে বোমা আঘাত হানে বলে জানানো হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
আপনার বিজ্ঞাপন এখানে