চীনা বংশোদ্ভূত কানাডীয় অধ্যাপক শুইচিন জিয়াংয়ের একটি পুরোনো ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রায় দুই বছর আগে প্রকাশিত ওই ভিডিওতে তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত পরাজিত হতে পারে।
শুইচিন জিয়াং ‘প্রেডিকটিভ হিস্ট্রি’ নামে একটি ইউটিউব চ্যানেল পরিচালনা করেন, যেখানে তিনি বৈশ্বিক রাজনীতি, ইতিহাস ও সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্লেষণ করেন। চ্যানেলটিতে বর্তমানে ১৫ লাখেরও বেশি অনুসারী রয়েছে।
২০২৪ সালের মে মাসে রেকর্ড করা একটি ভিডিওতে জিয়াং তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। তার মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতায় ফিরতে পারেন, এরপর তার প্রশাসনের সময়ে ইরানের সঙ্গে সামরিক উত্তেজনা বাড়তে পারে এবং শেষ পর্যন্ত সেই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
ভিডিওটি নতুন করে আলোচনায় আসে কারণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক ব্যবহারকারী দাবি করছেন যে জিয়াংয়ের প্রথম দুটি পূর্বাভাস বাস্তবতার সঙ্গে মিল খুঁজে পেয়েছে। এ কারণে কেউ কেউ তাকে ‘চীনের নস্ট্রাডামাস’ বলেও আখ্যা দিচ্ছেন। নস্ট্রাডামাস ছিলেন ১৬শ শতকের এক ফরাসি জ্যোতিষী, যিনি ভবিষ্যদ্বাণীর জন্য বিখ্যাত।
জানা যায়, শুইচিন জিয়াং বেইজিংয়ে দর্শন ও ইতিহাস বিষয়ে পাঠদান করেন। তিনি ইয়েল কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। পেশাগত জীবনের বড় একটি অংশ তিনি চীনের শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার ও পাঠ্যক্রম উন্নয়নের কাজে যুক্ত ছিলেন।
ওই ভিডিওতে জিয়াং ব্যাখ্যা করেন, যদি ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতায় আসেন, তবে আন্তর্জাতিক রাজনীতির নানা চাপ যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সঙ্গে সংঘর্ষের দিকে ঠেলে দিতে পারে। তিনি মনে করেন, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার ঝুঁকি থাকবে।
নিজের বিশ্লেষণে জিয়াং ইতিহাসের উদাহরণও টানেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য ইরান অভিযানের সঙ্গে প্রাচীন এথেন্সের সিসিলি অভিযানের তুলনা করেন। ইতিহাসে সেই অভিযানটি বড় সামরিক ব্যর্থতা হিসেবে পরিচিত।
জিয়াংয়ের মতে, ইরানের ভৌগোলিক অবস্থান, বিস্তীর্ণ পাহাড়ি এলাকা এবং বড় জনসংখ্যা যে কোনো বিদেশি শক্তির জন্য দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযানকে জটিল করে তুলতে পারে। পাশাপাশি দীর্ঘ সরবরাহ ব্যবস্থা ও সম্ভাব্য অভ্যন্তরীণ প্রতিরোধও এমন সংঘর্ষকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে।
তবে অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, এই ধরনের পূর্বাভাসকে সরাসরি ভবিষ্যৎ সত্য হিসেবে ধরা ঠিক নয়; বরং এগুলোকে ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষণের অংশ হিসেবেই দেখা উচিত।
আপনার বিজ্ঞাপন এখানে