70°F রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মেনু

ইসরায়েলের পরমাণু কেন্দ্রে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ট্রাম্পের আল্টিমেটাম

বস্টন বাংলা অনলাইন ডেস্ক, Boston Bangla

প্রকাশ: ২২ মার্চ ২০২৬ | নিউজটি দেখেছেন: ৫
ইসরায়েলের পরমাণু কেন্দ্রে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ট্রাম্পের আল্টিমেটাম

 মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েল-মার্কিন জোটের মধ্যে সংঘাত চরম আকার ধারণ করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলের কৌশলগত শহর আরাদ এবং পারমাণবিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ইরান ব্যাপক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে, পারস্য উপসাগরে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

​ইসরায়েলে সরাসরি আঘাত ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যর্থতা

​ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর আরাদে ইরানের একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আঘাত হেনেছে। এতে অন্তত ৫৯ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৬ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (IDF) স্বীকার করেছে যে, তাদের শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষেপণাস্ত্রটি রুখতে দুবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে।

​শহরটির একটি আবাসিক এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্রটি আঘাত হানলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। একই দিনে ইসরায়েলের পারমাণবিক স্থাপনা সংবলিত একটি শহরেও হামলা চালায় ইরান, যেখানে ৩৯ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। যুদ্ধের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলে মোট আহতের সংখ্যা ৪,২৯২ জনে দাঁড়িয়েছে।

​ট্রাম্পের ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

​পারস্য উপসাগরে উত্তেজনার পারদ চড়িয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালি সাধারণ জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত না করলে কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

​ট্রাম্প আরও বলেন, "ইরান চুক্তি করতে চাইলেও আমি এখন কোনো যুদ্ধবিরতি বা চুক্তিতে আগ্রহী নই।" যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, তারা ইতোমধ্যে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ সক্ষমতা ৯০ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছে। তবে ইরান এই দাবিকে 'বাস্তবতা বিবর্জিত' বলে আখ্যা দিয়েছে।

​ইরানে মানবিক বিপর্যয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

​ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা ১৫০০ ছাড়িয়েছে। রেড ক্রিসেন্টের তথ্যমতে, এর মধ্যে ২০৪ জন শিশু রয়েছে। আহত হয়েছেন ২০ হাজারের বেশি মানুষ। তেহরানের আইআরজিসি-র ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কারখানা এবং নাতানজ পারমাণবিক কেন্দ্রেও হামলার খবর পাওয়া গেছে, যদিও রাশিয়া এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে।

​কূটনৈতিক মেরুকরণ

​এই যুদ্ধে বিশ্বশক্তিগুলো স্পষ্টত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে:

  • রাশিয়া ও চীন: মস্কো তেহরানকে 'একনিষ্ঠ বন্ধু' হিসেবে উল্লেখ করে পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছে। বেইজিং ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলী লারিজানিকে হত্যার ঘটনাকে 'অগ্রহণযোগ্য' বলে নিন্দা জানিয়েছে।
  • আরব দেশসমূহ: সৌদি আরব ও কাতার তাদের দেশ থেকে ইরানি কূটনীতিকদের বহিষ্কার করেছে। তবে তুরস্ক ও ওমান এই সংঘাতে সরাসরি জড়িত হওয়ার খবর অস্বীকার করেছে।
  • ইউরোপ: যুক্তরাজ্য সাইপ্রাসের ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি না দিলেও হরমুজ প্রণালি পাহারায় মার্কিন জোটের সাথে যোগ দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। অন্যদিকে, জার্মানি ও সুইজারল্যান্ড যুদ্ধ থেকে দূরত্ব বজায় রাখছে; সুইজারল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রে অস্ত্র রপ্তানি স্থগিত করেছে।

​তেলের বাজার ও বিশ্ব অর্থনীতি

​যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইরানের হামলায় কাতারের এলএনজি (LNG) সক্ষমতার ১৭ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা মেরামত করতে ৫ বছর সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থেকে সাময়িকভাবে তেল রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার ইঙ্গিত দিয়েছে।