64°F বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মেনু

জেফরি এপস্টেইন: ক্ষমতা, যৌন নিপীড়ন এবং রহস্যময় মৃত্যুর এক অন্ধকার অধ্যায়

বস্টন বাংলা অনলাইন ডেস্ক, Boston Bangla

প্রকাশ: ০২ ফেব ২০২৬ | নিউজটি দেখেছেন: ১০
জেফরি এপস্টেইন: ক্ষমতা, যৌন নিপীড়ন এবং রহস্যময় মৃত্যুর এক অন্ধকার অধ্যায়

জেফরি এপস্টেইন: ক্ষমতা, যৌন নিপীড়ন এবং রহস্যময় মৃত্যুর এক অন্ধকার অধ্যায়

জেফরি এপস্টেইন ২০১১ সালে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্টকে বলেছিলেন, তিনি যৌন নিপীড়ক নন, বরং একজন অপরাধী—যেমন একজন হত্যাকারী আর একজন পাউরুটি চোরের মধ্যে পার্থক্য থাকে। কিন্তু বাস্তবে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের যৌন নিপীড়নের দায়ে দোষী সাব্যস্ত এই প্রভাবশালী অর্থলগ্নিকারী ২০১৯ সালের ১০ আগস্ট নিউইয়র্কের একটি কারাগারে বিচারাধীন অবস্থায় মারা যান।

শিক্ষক থেকে কোটিপতি

নিউইয়র্কে জন্ম ও বেড়ে ওঠা এপস্টেইন ১৯৭০–এর দশকে ডাল্টন স্কুলে গণিত ও পদার্থবিজ্ঞান পড়াতেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ না করলেও তিনি দ্রুতই ওয়াল স্ট্রিটে জায়গা করে নেন। ১৯৮২ সালে নিজের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে তিনি অতি ধনী গ্রাহকদের সম্পদ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পান। এর মাধ্যমে বিপুল অর্থ ও প্রভাবশালী সামাজিক যোগাযোগ গড়ে ওঠে।

ক্ষমতাধর মহলে অবাধ বিচরণ

ফ্লোরিডা, নিউ মেক্সিকো ও নিউইয়র্কে বিলাসবহুল সম্পত্তির মালিক এপস্টেইন রাজনীতিবিদ, শিল্পী ও তারকাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে মিশতেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প, বিল ক্লিনটন, প্রিন্স অ্যান্ড্রুসহ বহু পরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল। তবে এসব সম্পর্ক মানেই অপরাধে জড়িত থাকা—এমন দাবি প্রমাণিত হয়নি।

যৌন নিপীড়নের ভয়াবহ অভিযোগ

২০০৫ সালে ফ্লোরিডায় এক ১৪ বছর বয়সী কিশোরীর যৌন নিপীড়নের অভিযোগে এপস্টেইনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। পুলিশ ও গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে সামনে আসে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের নিয়ে গড়ে ওঠা একটি বড় যৌন নিপীড়ন নেটওয়ার্কের অভিযোগ। বহু ভুক্তভোগী প্রায় একই ধরনের বর্ণনা দেন।

বিতর্কিত সমঝোতা ও হালকা শাস্তি

২০০৮ সালে এপস্টেইন কৌঁসুলিদের সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তির মাধ্যমে ফেডারেল মামলার হাত থেকে রেহাই পান। সম্ভাব্য আজীবন কারাদণ্ডের বদলে তাঁকে ১৮ মাসের সাজা দেওয়া হয়, যার বড় অংশই তিনি বাইরে কাজ করার সুযোগ পান। এই চুক্তি পরে ‘শতাব্দীর সমঝোতা’ নামে সমালোচিত হয়।

পুনরায় গ্রেপ্তার ও রহস্যময় মৃত্যু

২০১৯ সালে যৌন পাচারের গুরুতর অভিযোগে এপস্টেইন আবার গ্রেপ্তার হন। জামিন না পাওয়ায় তাঁকে নিউইয়র্কের মেট্রোপলিটন কারাগারে রাখা হয়। বিচার শুরুর আগেই তিনি কারাগারে মারা যান। তাঁর মৃত্যু আত্মহত্যা বলে জানানো হলেও বিষয়টি ঘিরে ব্যাপক প্রশ্ন ও ষড়যন্ত্রতত্ত্ব তৈরি হয়।

প্রিন্স অ্যান্ড্রু বিতর্ক

এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স অ্যান্ড্রু গুরুতর বিতর্কে জড়ান। এক ভুক্তভোগী অভিযোগ তোলার পর তিনি মামলা মিটমাট করেন এবং শেষ পর্যন্ত তাঁর রাজকীয় উপাধি বাতিল করা হয়।

গিলেন ম্যাক্সওয়েল: সহযোগীর সাজা

এপস্টেইনের সাবেক সঙ্গী গিলেন ম্যাক্সওয়েলকে ২০২০ সালে গ্রেপ্তার করা হয়। অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের যৌনকর্মে বাধ্য করতে সহায়তার দায়ে তিনি দোষী সাব্যস্ত হন এবং ২০ বছরের কারাদণ্ড পান। আদালতে তিনি এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ককে নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল বলে উল্লেখ করেন।

নথি প্রকাশ ও নতুন প্রশ্ন

২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ‘এপস্টেইন ফাইলস ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্ট’ পাস হওয়ার পর লাখ লাখ পৃষ্ঠার তদন্ত নথি প্রকাশ শুরু হয়। এসব নথি এপস্টেইনের অপরাধ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বিচারব্যবস্থার ব্যর্থতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।