63°F সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মেনু

জেনারেল এম এ জি ওসমানীর মৃত্যুবার্ষিকী আজ

Online Desk, Boston Bangla

প্রকাশ: ১৬ ফেব ২০২৬ | নিউজটি দেখেছেন: ২৫
জেনারেল এম এ জি ওসমানীর মৃত্যুবার্ষিকী আজ

জেনারেল এম এ জি ওসমানীর মৃত্যুবার্ষিকী আজ

জাতির শ্রদ্ধা মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ককে মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি ও মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক মোহাম্মদ আতাউল গনি ওসমানী (এম এ জি ওসমানী)-এর মৃত্যুবার্ষিকী আজ সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি)। ১৯৮৪ সালের এই দিনে তিনি ইন্তেকাল করেন। স্বাধীনতার সংগ্রামে তার অবিস্মরণীয় অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে জাতি।

শৈশব ও শিক্ষা জীবন

১৯১৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন ওসমানী। তাঁর গ্রামের বাড়ি সিলেটের বালাগঞ্জে। শৈশবে প্রাতিষ্ঠানিক বিদ্যালয়ে ভর্তি না হয়ে পরিবারেই তার প্রাথমিক শিক্ষার সূচনা হয়। বিদুষী মায়ের তত্ত্বাবধান ও গৃহশিক্ষকের মাধ্যমে তিনি বাংলা ও ফার্সি ভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন।

১৯২৯ সালে ১১ বছর বয়সে তাকে আসামের গৌহাটির কটন স্কুলে ভর্তি করা হয়। পরে ১৯৩২ সালে সিলেট সরকারি পাইলট স্কুলে নবম শ্রেণিতে ভর্তি হন। ১৯৩৪ সালে প্রথম বিভাগে মেট্রিক পাস করেন এবং ইংরেজিতে কৃতিত্বের জন্য ‘প্রিটোরিয়া অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেন। একই বছর তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য ভর্তি হন আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়-এ। সেখান থেকে ১৯৩৬ সালে আইএ এবং ১৯৩৮ সালে বিএ ডিগ্রি অর্জন করেন।

সামরিক জীবনের সূচনা ও উত্থান

১৯৩৯ সালে ভূগোলে এমএ প্রথম পর্ব অধ্যয়নকালে তিনি ব্রিটিশ-ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। ছাত্রজীবন থেকেই মেধা, শৃঙ্খলা ও নেতৃত্বগুণে তিনি আলাদা পরিচিতি পান। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউনিভার্সিটি অফিসার্স ট্রেনিং কোর (ইউওটিসি)-এর সার্জেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৪০ সালের ৫ অক্টোবর দেরাদুন সামরিক একাডেমি থেকে সাফল্যের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়ে কিং কমিশন লাভ করেন। ১৯৪১ সালে ক্যাপ্টেন এবং ১৯৪২ সালে ব্রিটিশ আর্মির সর্বকনিষ্ঠ মেজর হিসেবে পদোন্নতি পান। মাত্র ২৩ বছর বয়সে একটি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক হয়ে তিনি নজির স্থাপন করেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে ১৯৪৩ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত বার্মার রণাঙ্গনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৪৫ সালে আইসিএস পরীক্ষায়ও উত্তীর্ণ হন, যা তার বহুমুখী প্রতিভার প্রমাণ বহন করে।

পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব

১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর ৭ অক্টোবর তিনি লেফটেন্যান্ট কর্নেল হিসেবে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। ১৯৪৮ সালে কোয়েটা স্টাফ কলেজ থেকে পিএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৫৫ সালে পাকিস্তান সেনা সদর দপ্তরের অপারেশন পরিদপ্তরে জেনারেল স্টাফ অফিসার হিসেবে নিয়োগ পান এবং ১৯৫৬ সালে কর্নেল পদে পদোন্নতি লাভ করেন।

আন্তর্জাতিক সামরিক জোট সিয়াটো ও সেন্টোতে পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করেন তিনি। ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধে ডেপুটি ডিরেক্টর অব মিলিটারি অপারেশনস হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কর্মরত থাকলেও তিনি একজন স্বাধীনচেতা বাঙালি কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ১৯৬৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি কর্নেল পদে থাকা অবস্থায় অবসর গ্রহণ করেন।

মুক্তিযুদ্ধে সর্বাধিনায়ক

১৯৭০ সালের নির্বাচনে ফেঞ্চুগঞ্জ-বালাগঞ্জ-বিশ্বনাথ এলাকা থেকে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য (এমএনএ) নির্বাচিত হন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সংগঠন, কৌশল নির্ধারণ ও সেক্টরভিত্তিক যুদ্ধ পরিচালনায় তার নেতৃত্ব ছিল অসামান্য। মুক্তিযুদ্ধে তার দূরদর্শী পরিকল্পনা ও নেতৃত্ব স্বাধীনতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ইন্তেকাল ও সমাধিস্থল

৬৫ বছর বয়সে ১৯৮৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি তিনি ইন্তেকাল করেন। সিলেটে হযরত শাহজালাল (রঃ) মাজার সংলগ্ন গোরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়।

মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছে। মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক হিসেবে জেনারেল এম এ জি ওসমানীর অবদান ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।