80°F শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ০৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মেনু

জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে আরও গবেষণা ও বই লেখার আহ্বান নাহিদ ইসলামের

বস্টন বাংলা অনলাইন ডেস্ক, Boston Bangla

প্রকাশ: ০৬ মার্চ ২০২৬ | নিউজটি দেখেছেন: ২০
জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে আরও গবেষণা ও বই লেখার আহ্বান নাহিদ ইসলামের

জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে আরও বিস্তৃত গবেষণা, বই লেখা এবং সাংস্কৃতিক চর্চা হওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও National Citizen Party (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক Nahid Islam।

শুক্রবার (৬ মার্চ) রাজধানীর বাংলামোটরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এনসিপিকে নিয়ে রচিত বই NCPir Jatra–এর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান শুধু একটি রাজনৈতিক ঘটনা নয়, এটি বাংলাদেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এ ঘটনার স্মৃতি ও তাৎপর্য দীর্ঘদিন ধরে মানুষের মধ্যে টিকে রাখতে গবেষণা, বই, গান, শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির মাধ্যমে বিষয়টি আরও বেশি তুলে ধরা প্রয়োজন। তার মতে, ইতিহাসের বহু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা শিল্প ও সাহিত্যকর্মের মাধ্যমেই প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মানুষের কাছে জীবন্ত হয়ে থাকে।

এনসিপির পথচলা প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় যে শক্তিশালী তরুণ আন্দোলন গড়ে উঠেছিল, সেই তরুণ শক্তির বড় একটি অংশ পরবর্তীতে এনসিপি গঠনের পেছনে ভূমিকা রাখে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের তরুণদের মধ্যে একটি গণতান্ত্রিক ও পুনর্গঠিত রাষ্ট্র গড়ার আকাঙ্ক্ষা ছিল। সেই স্বপ্নকে সামনে এগিয়ে নিতে যে রাজনৈতিক উদ্যোগ প্রয়োজন ছিল, তার পটভূমি তৈরি করে জাতীয় নাগরিক কমিটি এবং বিভিন্ন ছাত্র আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম।

‘এনসিপির যাত্রা’ বই সম্পর্কে তিনি বলেন, দলটির গঠন থেকে শুরু করে নির্বাচন পর্যন্ত প্রায় এক বছরে এনসিপি কী ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে, কোন কোন ইস্যুতে অবস্থান নিয়েছে এবং কী ধরনের কর্মসূচি দিয়েছে—এসব বিষয় বইটিতে ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এতে পাঠক দলটির রাজনৈতিক অবস্থান ও কর্মকাণ্ড সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ধারণা পাবেন।

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, আন্তর্জাতিক মহল কিংবা কূটনৈতিক অঙ্গনে অনেক সময় এনসিপি সম্পর্কে নানা ধরনের প্রচারণা দেখা যায়। কখনো এমন বক্তব্যও দলের নামে প্রচার করা হয়, যা দল কখনো দেয়নি। আবার অনেক সময় কোনো নেতার ব্যক্তিগত বক্তব্যকে দলের আনুষ্ঠানিক অবস্থান হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। তার মতে, বইটি পড়লে বিভিন্ন ইস্যুতে এনসিপির প্রকৃত অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

তিনি বলেন, সাংবিধানিক সংস্কারসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সংস্কারের প্রশ্নে এনসিপির দৃঢ় অবস্থান বইটিতে তুলে ধরা হয়েছে। একটি রাজনৈতিক দলের ইতিহাস আসলে সেই দেশের রাজনীতির ইতিহাসেরই অংশ—এ মন্তব্য করে তিনি বলেন, দলগুলোর উত্থান, বিকাশ ও রাজনৈতিক অবস্থান বোঝা গেলে দেশের রাজনীতির গতিপথও বোঝা সহজ হয়।

গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ের কথা উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, সে সময় দেশে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম তৈরি হয়েছিল। তবে রাজনৈতিক দল হিসেবে সংগঠিতভাবে দাঁড়াতে পেরেছে এনসিপি। এর পেছনে দুটি কারণ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন—প্রথমত, গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্বের বড় অংশ এনসিপির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এবং দ্বিতীয়ত, ক্ষমতা পরিবর্তনের রাজনীতির বাইরে গিয়ে সংস্কার ও বিচারের প্রশ্ন সামনে আনার চেষ্টা করেছে দলটি। তবে গত এক বছরে দলটির কিছু সীমাবদ্ধতার কথাও তিনি স্বীকার করেন।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন এবং জুলাই পদযাত্রাসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে দলটি গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। এসব অভিজ্ঞতা নিয়েও ভবিষ্যতে পৃথকভাবে গবেষণা ও বই লেখা হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে রাজনৈতিক দলগুলোর ইতিহাস নিয়ে তুলনামূলকভাবে খুব কম গবেষণা ও লেখালেখি হয়। অথচ কোনো দেশের রাজনীতির গতিপথ বোঝার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর ইতিহাস জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি উল্লেখ করেন, দেশের তুলনায় বিদেশি গবেষক ও গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে এনসিপি এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে আগ্রহ বেশি দেখা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী, গবেষক ও ডকুমেন্টারি নির্মাতা ইতোমধ্যে বাংলাদেশে এসে এ বিষয়ে কাজ করেছেন এবং সাক্ষাৎকার ও তথ্য সংগ্রহ করেছেন।

দেশের লেখক, গবেষক ও সংস্কৃতিকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এনসিপি, জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং তরুণ নেতৃত্বের উত্থান নিয়ে নিরপেক্ষভাবে আরও বেশি গবেষণা ও লেখালেখি হওয়া উচিত। তার মতে, সাম্প্রতিক সময়টি বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে এবং এই সময়ের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতের রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণে প্রভাব ফেলবে।

উল্লেখ্য, ‘এনসিপির যাত্রা’ বইটি এনসিপিকে নিয়ে রচিত প্রথম গ্রন্থ। বইটি লিখেছেন দলের যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক Mahabub Alam। তিনি জানান, বইটিতে এনসিপির রাজনৈতিক কর্মসূচি, সাংগঠনিক কার্যক্রম ও রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি সাবেক প্রধানমন্ত্রী Sheikh Hasina–এর দীর্ঘ সময়ের শাসনব্যবস্থার সমালোচনামূলক বিশ্লেষণও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সদস্যসচিব Akhtar Hossain, যুগ্ম আহ্বায়ক Sarwar Tusharসহ দলের অন্যান্য নেতারা।