জামালপুরের ইসলামপুর ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার যমুনা নদীঘেঁষা চরাঞ্চলে তীব্র জ্বালানি তেল সংকটের কারণে নৌ চলাচল প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ইসলামপুরের গুঠাইল ঘাটে নৌকা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা খাইরুল মিয়ার মতো শত শত মাঝি এখন কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। তেলের অভাবে ঘাটে সারিবদ্ধভাবে নৌকা বেঁধে রাখতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। খুচরা দোকানে তেলের কৃত্রিম সংকট এবং অতিরিক্ত মূল্যের কারণে মাঝিরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। আগে যেখানে প্রতিদিন এই ঘাট থেকে শত শত নৌকা ছেড়ে যেত, এখন সেখানে ২০টি নৌকা চালানোও দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইসলামপুর উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র গুঠাইল বাজার ও এর সংলগ্ন ঘাটটি চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের পাশাপাশি গাইবান্ধা এবং বগুড়াসহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকার সঙ্গে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম। ঈদুল ফিতরের আগে থেকেই শুরু হওয়া এই ডিজেল সংকট বর্তমানে চরম আকার ধারণ করেছে। যমুনার পাড়ে মুরাদাবাদ, কুলকান্দি ও দেওয়ানগঞ্জের বাহাদুরাবাদ ঘাটেও একই চিত্র দেখা গেছে। মাঝিদের অভিযোগ, বাজারে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি অর্থাৎ ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা দরে ডিজেল কিনতে হচ্ছে। চরাঞ্চলের যাত্রীরা বাড়তি ভাড়া দিতে রাজি না হওয়ায় তেলের এই চড়া দাম দিয়ে নৌকা চালিয়ে লোকসান গুনতে হচ্ছে চালকদের। ফলে বাধ্য হয়ে অনেকেই পেশা বন্ধ রেখে ঘাটে অলস সময় কাটাচ্ছেন।
নৌ চলাচল সীমিত হয়ে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন চরাঞ্চলের সাধারণ মানুষ। ঘাটে নৌকার সংখ্যা কমে যাওয়ায় হাতেগোনা দুই-একটি নৌকায় গাদাগাদি করে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হচ্ছে যাত্রীদের। জরুরি প্রয়োজনে রোগী পরিবহন কিংবা নিত্যপ্রয়োজনীয় মালামাল আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। যাত্রী কমে যাওয়ায় ঘাটের আশপাশের দোকানদার ও শ্রমিকরাও ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। বাজারের স্বাভাবিক কেনাবেচা কমে যাওয়ায় স্থানীয় অর্থনীতিতে স্থবিরতা নেমে এসেছে। অনেক যাত্রী বাধ্য হয়ে দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল বিকল্প পথে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।
এই সংকট নিরসনে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী মাঝিরা। এ বিষয়ে জামালপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এ কে এম আবদুল্লাহ-বিন-রশিদ জানিয়েছেন, কোথাও নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি মূল্যে তেল বিক্রির প্রমাণ পেলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নৌকার জ্বালানি তেলের এই বিশেষ সংকট মোকাবিলায় বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যায় কি না, সে বিষয়েও প্রশাসন খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে। তবে দ্রুত সমাধান না হলে চরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আপনার বিজ্ঞাপন এখানে