খুলনায় আ.লীগ কার্যালয়ে নেতা–কর্মীদের উপস্থিতি, সন্ধ্যায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ
তালা ভেঙে প্রবেশ, জাতীয় পতাকা উত্তোলন; পাল্টা প্রতিবাদে উত্তপ্ত নগরী
গণ–অভ্যুত্থানের পর দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকা খুলনা মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে রোববার বিকেলে প্রথমবারের মতো দলীয় নেতা–কর্মীদের উপস্থিতি দেখা গেছে। নগরের লোয়ার যশোর রোডের শঙ্খ মার্কেট এলাকায় অবস্থিত কার্যালয়ে বিকেল চারটার দিকে একদল নেতা–কর্মী প্রবেশ করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, তাঁরা কার্যালয়ের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন এবং শেখ মুজিবুর রহমান ও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-র ছবিতে ফুলের মালা দেন। এ সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন উপস্থিত নেতা–কর্মীরা। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
কার্যালয়ে যাওয়া নেতা–কর্মীদের একজন, খুলনা মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতা, নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এটি কোনো আনুষ্ঠানিক দলীয় কর্মসূচি ছিল না। তাঁর ভাষ্য, কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুরূপ ঘটনার খবর পেয়ে খুলনাতেও তাঁরা যান।
তিনি বলেন, ‘কার্যালয় তালাবদ্ধ ছিল। আমরা তালা ভেঙে ওপরে উঠে জাতীয় পতাকা টাঙাই, বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার ছবিতে মালা দিই। পরে নতুন একটি তালা লাগিয়ে চলে আসি, যেন ভবিষ্যতে ঢোকা যায়। কেউ আমাদের বাধা দেয়নি।’
ওই নেতা দাবি করেন, প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন কর্মী সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের কর্মীরা ছিলেন। কোনো কেন্দ্রীয় বা উল্লেখযোগ্য শীর্ষ নেতা উপস্থিত ছিলেন না বলেও তিনি দাবি করেন।
তবে দলীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ভিডিও ফুটেজে সোনাডাঙ্গা থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি টি এম আরিফ ও সদর থানা আওয়ামী লীগ নেতা মো. রুবেলের উপস্থিতি দেখা গেছে। ভিডিওতে উপস্থিত নেতা–কর্মীদের বেশ উৎফুল্ল দেখা যায়।
খুলনা সদর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম হোয়াটসঅ্যাপে বলেন, ‘এত দিন একটি অবৈধ সরকার ও মবের রাজত্ব চলছিল। এখন রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় এসেছে। আমরা আমাদের রাজনৈতিক অধিকার প্রয়োগ করতে চাই। একটি বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে আমাদের রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়া হবে বলে আশা করছি।’
তিনি আরও বলেন, দলীয় কার্যক্রম পুনরায় শুরু করার অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে তাঁরা মনে করছেন।
বিকেলের এ ঘটনার পর সন্ধ্যায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতাদের নেতৃত্বে একদল বিক্ষুব্ধ ব্যক্তি খুলনা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ভাঙচুর চালায় এবং কাঠের দরজা ও ভেতরের কাগজপত্রে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে কার্যালয়ের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অগ্নিসংযোগের সময় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পটভূমি
গত ৫ আগস্ট ২০২৪ সালে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর খুলনা মহানগর ও জেলার বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এর এক দিন আগে, ৪ আগস্টও মহানগর ও জেলা কার্যালয়ে বিক্ষোভকারীরা ভাঙচুর চালায়। এরপর থেকে দীর্ঘদিন কার্যালয় কার্যত পরিত্যক্ত ছিল এবং সেখানে দলীয় কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি।
রোববারের ঘটনায় খুলনার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, নিষিদ্ধ ঘোষণার পরও দলীয় তৎপরতা এবং তার পাল্টা প্রতিক্রিয়া নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
ঘটনা সম্পর্কে প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় সূত্র বলছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আপনার বিজ্ঞাপন এখানে