77°F বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মেনু

মধ্যপ্রাচ্য সংকটের জেরে জাপানি ও দক্ষিণ কোরিয়ার ব্যবহৃত গাড়ি ব্যবসায়ীরা জটিল সমস্যায়

বস্টন বাংলা, Boston Bangla

প্রকাশ: ২৬ মার্চ ২০২৬ | নিউজটি দেখেছেন: ৪
মধ্যপ্রাচ্য সংকটের জেরে জাপানি ও দক্ষিণ কোরিয়ার ব্যবহৃত গাড়ি ব্যবসায়ীরা জটিল সমস্যায়

ইরান ও ইসরায়েল–যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় জাপানি ব্যবহৃত গাড়ির ব্যবসায়ীরা নতুন সমস্যার মুখে পড়েছেন। হায়দার আলী, যিনি দুই দশক ধরে জাপানে বসবাস করছেন, তাঁর কোম্পানি কোবে মোটর জাপান থেকে দক্ষিণ এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকায় ব্যবহৃত গাড়ি রপ্তানি করেন। যুদ্ধের কয়েক দিনের মধ্যে তিনি জানতে পারেন, তার ৫০০টির বেশি গাড়ি সমুদ্রে আটকা পড়েছে এবং শ্রীলঙ্কার বন্দরে নামানো সম্ভব হচ্ছিল না।

হায়দার আলী জানান, শেষ পর্যন্ত কিছু গাড়ি হম্বানটোটা বন্দরে নামানো হয়েছে, কিন্তু ১০ দিনের বেশি দেরি হয়েছে। তিনি বলছেন, মধ্যপ্রাচ্য সংকট এবং হরমুজ প্রণালির আংশিক বন্ধ কেবল জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার ব্যবহৃত গাড়ি ব্যবসায়ীদের জন্য নয়, পুরো শিল্পের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বন্দর জটের কারণে শিপিং কোম্পানির মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। কিছু কোম্পানি চালান বাতিল করেছে, কিছু পাকিস্তান বা চীনের বন্দরে পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে গাড়িপ্রতি পাঁচ হাজার ডলার পর্যন্ত আমানত চাওয়া হয়েছে। হায়দার আলীর কয়েকটি বিলাসবহুল গাড়ি—রোলস-রয়েস, ল্যাম্বারগিনি ও ফেরারি—শ্রীলঙ্কা ও চীনের বন্দরে আটকা আছে। বিমানে চালান পাঠানো সম্ভব হলেও খরচ অনেক বেশি পড়বে।

জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার ব্যবহৃত গাড়ির রপ্তানি গত বছর প্রায় ১৯ বিলিয়ন ডলার ছিল। দক্ষিণ কোরিয়ার রপ্তানির এক-তৃতীয়াংশ মধ্যপ্রাচ্যে যায়। জাপানি গাড়ির সবচেয়ে বড় গন্তব্য সংযুক্ত আরব আমিরাত, যেখানে ২ লাখ ২৪ হাজার ইউনিট পাঠানো হয়েছে।

চলতি মৌসুমে দক্ষিণ কোরিয়ায় ব্যবহৃত গাড়ির চালান প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ইঞ্চিয়ন বন্দরের গাড়ি সংরক্ষণ কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। গাড়ির প্রায় ৭০ শতাংশ এখন গুদামে আটকা আছে। কিছু জাহাজ হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে বিকল্প বন্দরে কার্গো নামানোর পরিকল্পনা করছে।

ব্যবহৃত গাড়ির পরিবেশক অটোমোবাইল ইন্টারন্যাশনালের প্রেসিডেন্ট জিন জে-ওং বলেন, ‘যুদ্ধ শুরু হলে আমাদের হাতে শুধু অপেক্ষা ও রক্ষণাবেক্ষণের উপায় থাকে।’ তিনি আরও জানান, সংঘাত শেষ হলে চাহিদা আবার বৃদ্ধি পাবে, তাই কোম্পানি আগাম গাড়ি কিনে রাখার পরিকল্পনা করছে।

কিছু রপ্তানিকারক বিকল্প বাজার খুঁজছেন, তবে আফ্রিকা বা লাতিন আমেরিকার বাজারে অতিরিক্ত চাহিদা নেই। সমুদ্রপথে ভাসমান কার্গোর শেষ গন্তব্য জানা না থাকায় কার্যত তাদের হাতে সমাধান নেই, জানিয়েছেন ভেন্টাস অটোর প্রেসিডেন্ট ইউন সেং-হিউন।