বস্টন বাংলা ডেস্ক | ম্যাসাচুসেটস
যুক্তরাষ্ট্রের নর্থইস্ট অঞ্চলে বসবাসরত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সংগঠন “অ্যাসোসিয়েশন অব ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অব দ্য নর্থইস্ট (অ্যাডুয়েন)”–এর উদ্যোগে আজ অনুষ্ঠিত হয়েছে পহেলা বৈশাখ ১৪৩৩ উদযাপন এবং নতুন কার্যনির্বাহী কমিটিকে বরণ অনুষ্ঠান। প্রবাসে বাঙালি সংস্কৃতি, বন্ধন ও স্মৃতিকে ঘিরে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি দিনব্যাপী উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়।
সকাল থেকেই বিভিন্ন শহর থেকে আগত ঢাবিয়ানদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানস্থলে প্রাণচাঞ্চল্য তৈরি হয়। নিউইয়র্ক, বস্টনসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও শহর থেকে আগত প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন পর একত্রিত হয়ে স্মৃতিচারণ, পরিচয় বিনিময় ও আড্ডায় অংশ নেন। আয়োজনে ছিল এক আন্তরিক পারিবারিক আবহ, যেখানে প্রবাস জীবনের ব্যস্ততার মাঝেও বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের বন্ধন যেন নতুন করে ফিরে আসে।
যদিও সকাল থেকেই জমায়েত ও শুভেচ্ছা বিনিময় শুরু হয়, তবে মধ্যাহ্নভোজ ও নেটওয়ার্কিং পর্ব শেষে অনুষ্ঠানের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। জাতীয় সংগীত পরিবেশনের পাশাপাশি স্থানীয় শিল্পী ও অংশগ্রহণকারীদের কণ্ঠে পরিবেশিত হয় “এসো হে বৈশাখ” কোরাস, যা পুরো আয়োজনে বাংলা নববর্ষের আবহকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
অনুষ্ঠানে নতুন কার্যনির্বাহী কমিটিকে পরিচয় করিয়ে দেন ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস লওয়েলের ম্যানিং স্কুল অব বিজনেস-এর অধ্যাপক, গবেষণা পরিচালক ও চেয়ার ড. খন্দকার করিম। স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক আহাম্মদ হাসান। বক্তব্য পর্বে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির সক্রিয় সদস্য ও সাংস্কৃতিক উদ্যোগের সমর্থক সাইমন সাবির, কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডিধারী ড. বমন দাস, কমিউনিটি অর্গানাইজার মনির সাজি এবং বেন্টলি ইউনিভার্সিটির ফাইন্যান্স ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যান ড. জাহাঙ্গীর সুলতানসহ আরও অনেকে।
অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্ব ছিল বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। এ পর্ব পরিচালনা করেন জান্নাতুন নেসা (লিপি)। নৃত্য পরিবেশন করেন তিথিকা মেধা বড়ুয়া এবং সংগীত পরিবেশন করেন জাফিনা ও এয়ান। আবৃত্তি পর্ব পরিচালনা করেন সুব্রিনা ফারাহ ও জান্নাতুন নেসা। এতে অংশ নেন মীর ফজলুল করিম, ড. সাফা খান, ড. আকরাম ভূঁইয়া, বদিউজ্জামান নাসিম, ড. ফয়জুল হক, ড. সৈয়দা ইয়াসমিন করিম, রওনক আফরোজ, সুব্রিনা ফারাহ এবং ড. আব্দুল্লাহ শিবলী ও নাসরীন শিবলী। এছাড়াও বাংলাদেশের জনপ্রিয় ও জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা রাসুল ইসলাম আসাদের আবৃত্তি উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে বিশেষ সাড়া ফেলে এবং পুরো সাংস্কৃতিক আয়োজনে একটি ভিন্ন মাত্রা যোগ করে।
পুরো আয়োজনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য অংশ ছিল মাদার্স ডে উদযাপন। কেক কাটার পাশাপাশি অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকল মাকে ফুল, চকলেট ও প্রীতি উপহার প্রদান করে সম্মান জানানো হয়। আয়োজকদের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি করে এবং প্রবাসে পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধের এক সুন্দর প্রতিফলন তুলে ধরে।
দিনের শেষ পর্বে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সংগীত সন্ধ্যা। এতে সংগীত পরিবেশন করেন তাপস বড়ুয়া, তাজিন আহমেদ, জুয়েল আলম, ড. ফয়জুল হক, রুবাইনা জামান ও মো. জিয়াউল হাসান। বাদ্যযন্ত্রে সহযোগিতা করেন জুয়েল আলম (কিবোর্ড), ময়দুল ইসলাম পলাশ (গিটার) এবং সাগর (তবলা ও সাউন্ড)।
সংগঠনের নবগঠিত কার্যনির্বাহী কমিটিতে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন অধ্যাপক আহাম্মদ হাসান। সহ-সভাপতি মো. জিয়াউল হাসান, সাধারণ সম্পাদক সুব্রিনা ফারাহ, অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ এ. সালাম (শিলু), সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম, কোষাধ্যক্ষ উমামা আনজালিন, শিক্ষা সম্পাদক ড. মাহফুজা মালিক, সাংস্কৃতিক সম্পাদক জান্নাতুন নেসা লিপি, অ্যালামনাই রিলেশন ও নেটওয়ার্কিং সম্পাদক মীর ফজলুল করিম, বহিঃসম্পর্ক সম্পাদক তামজিদ এসএম এবং মিডিয়া সম্পাদক সৈয়দ আবু সাদাত সিয়াম দায়িত্ব পালন করবেন।
অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্য দেন সংগঠনের সহ-সভাপতি মো. জিয়াউল হাসান। শুভ নববর্ষ ১৪৩৩-এর শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রবাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ, সাংস্কৃতিক বন্ধন এবং আগামী প্রজন্মের সঙ্গে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতেই এ ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
আপনার বিজ্ঞাপন এখানে