নতুন মন্ত্রিসভার শপথে আন্তর্জাতিক উপস্থিতি: ঢাকায় আসছেন তুরস্কের ডেপুটি মিনিস্টার, যোগ দিচ্ছেন পাকিস্তানসহ ১৩ দেশের প্রতিনিধি
বাংলাদেশের নতুন সরকারের মন্ত্রীদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ঢাকায় কূটনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। তুরস্ক সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিনিধি হিসেবে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি মিনিস্টার অ্যাম্বাসেডর এ বেরিস একিনজি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ঢাকায় আসছেন। সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
ভোরে ঢাকায় পৌঁছাবেন তুর্কি প্রতিনিধি
সূত্র জানায়, মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৫টায় টার্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তিনি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ অবতরণ করবেন। বিমানবন্দরে তাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানাবেন এবং রাষ্ট্রীয় প্রোটোকল অনুসরণ করা হবে।
১৯৬৬ সালের ১৭ মে আঙ্কারায় জন্মগ্রহণকারী অ্যাম্বাসেডর একিনজি ২০১৬ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত তুরস্কের হাভানাস্থ দূতাবাসে রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ১৭ মে তাকে ডেপুটি মিনিস্টার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তুরস্কের পররাষ্ট্রনীতিতে জ্বালানি, পরিবেশ, আঞ্চলিক সহযোগিতা ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।
শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকের আগ্রহ
কূটনৈতিক সূত্র জানায়, সফরকালে তিনি বিদায়ী প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। সম্ভাব্য বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে আলোচনা হতে পারে।
বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম—যেমন ড্রোন প্রযুক্তি, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, মানবিক সহায়তা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ে দুই দেশের সম্পর্ক সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরও জোরদার হয়েছে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েব এরদোয়ান ইতোমধ্যে বিএনপির বিজয়ে অভিনন্দন জানিয়েছেন বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।
পাকিস্তানের প্রতিনিধি আহসান ইকবালও থাকছেন
শপথ অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের ফেডারেল মিনিস্টার আহসান ইকবাল অংশ নেবেন। এছাড়া আরও ১৩টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, প্রধানমন্ত্রী বা উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
জাতীয় সংসদ ভবনে শপথ অনুষ্ঠান
শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় সংসদ ভবন-এর দক্ষিণ প্লাজায়। সকাল ১০টায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন-এর কাছে শপথ নেবেন। বিকেল ৪টায় রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন।
আমন্ত্রিত দেশ ও প্রতিনিধিরা
আমন্ত্রিত দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে চীন, ভারত, পাকিস্তান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মালয়েশিয়া, ব্রুনাই, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মালদ্বীপ ও ভুটান।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আমন্ত্রিত হলেও তিনি উপস্থিত থাকছেন না। তার পরিবর্তে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রী প্রতিনিধিত্ব করবেন।
ভুটানের প্রধানমন্ত্রী তশেরিং তোবগে, মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ মুইজ্জু, শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড. নলিন্দ জয়তিসা-সহ অন্যান্য প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।
গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক আস্থার প্রতিফলন
বিএনপির নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের আমন্ত্রণে বিদেশি প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয়কে দলটি “গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধার” হিসেবে বর্ণনা করছে।
কূটনৈতিক মহলের মতে, বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান ও প্রতিনিধিদের উপস্থিতি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের প্রতি আস্থার প্রতিফলন।
শপথ অনুষ্ঠান উপলক্ষে রাজধানীতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রায় হাজারখানেক দেশি-বিদেশি অতিথি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। ঢাকায় অবস্থানরত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধিরাও এতে যোগ দেবেন।
আপনার বিজ্ঞাপন এখানে