অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে মালালা ইউসুফজাইয়ের প্রতিকৃতি উন্মোচন
যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে শান্তিতে নোবেলজয়ী মালালা ইউসুফজাইয়ের প্রতিকৃতি উন্মোচন করা হয়েছে। গত শুক্রবার থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের লেডি মার্গারেট হলে প্রতিকৃতিটি স্থায়ীভাবে প্রদর্শিত হচ্ছে। এর মাধ্যমে এই হলে দ্বিতীয় কোনো পাকিস্তানির প্রতিকৃতি স্থান পেল। এর আগে সেখানে পাকিস্তানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টোর প্রতিকৃতি স্থাপন করা হয়েছিল।
মালালার প্রতিকৃতি অঙ্কন করেছেন চিত্রশিল্পী ইসাবেলা ওয়াটলিং। অক্সফোর্ডে আয়োজিত উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রায় ২০০ জন অতিথি উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে অক্সফোর্ডের প্রাক্তন শিক্ষার্থী, শিক্ষাবিদ, মালালার পরিবারের সদস্য এবং তাঁর স্বামী আসার মালিকও ছিলেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে মালালা নারী শিক্ষার্থীদের ক্ষমতায়ন ও অন্তর্ভুক্তির গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
ভাষণে মালালা বলেন, পাকিস্তানের সাংলা থেকে শুরু করে তানজানিয়ার মিয়নকংগো স্কুল কিংবা উত্তর লন্ডনের হ্যারো হাইস্কুল—যেখানেই হোক না কেন, এই স্বীকৃতি যেন সব শিক্ষার্থীর কাছে একটি স্পষ্ট বার্তা পৌঁছে দেয়। তিনি বলেন, এই বার্তাটি হলো—নারী শিক্ষার্থীরা এই শিক্ষাঙ্গনেরই অংশ এবং এসব হলের করিডোরে হাঁটার সময় তারা নিজেদের উপস্থিতি ও সম্ভাবনাকেই যেন দেখতে পায়।
পরে গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মালালা বলেন, পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টো তাঁর জন্য দীর্ঘদিন ধরে অনুপ্রেরণার প্রতীক। বেনজিরের সঙ্গে একই হলে তাঁর প্রতিকৃতি স্থান পাওয়াকে তিনি গভীর সম্মানের বলে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, বেনজির ভুট্টো শুধু পাকিস্তানের নয়, বরং সারা বিশ্বের নারীদের জন্য সাহস ও নেতৃত্বের প্রতীক।
অক্সফোর্ড পাকিস্তান প্রোগ্রামের সহপ্রতিষ্ঠাতা তালহা জে পিরজাদা বলেন, মালালা ইউসুফজাই শুরু থেকেই এই প্রোগ্রামের একজন দৃঢ় সমর্থক। শিক্ষা ও সমতার প্রতি তাঁর প্রতিশ্রুতির ফলে পাঁচজন প্রতিভাবান পাকিস্তানি নারী অক্সফোর্ডে পড়ার সুযোগ পেয়েছেন, যাঁরা সবাই লেডি মার্গারেট হলের শিক্ষার্থী ছিলেন।
১৯৯৭ সালের ১২ জুলাই পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের সোয়াত জেলায় মালালা ইউসুফজাইয়ের জন্ম। নারী শিক্ষার পক্ষে অবস্থান নেওয়ার কারণে ২০১২ সালে তালেবানের হামলার শিকার হলেও তিনি প্রাণে বেঁচে যান এবং আরও দৃঢ়ভাবে শিক্ষা অধিকারের পক্ষে কাজ চালিয়ে যান। তাঁর এই সংগ্রাম বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়।
নারী শিক্ষা বিস্তারে অসামান্য ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৪ সালে ভারতের কৈলাস সত্যার্থীর সঙ্গে যৌথভাবে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান মালালা ইউসুফজাই। তিনি তখন ছিলেন নোবেল ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ বিজয়ী। ২০১৭ সালে জাতিসংঘ তাঁকে শান্তির দূত হিসেবে মনোনীত করে এবং ২০১৩ সালে তাঁর ১৬তম জন্মদিনকে ‘মালালা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
আপনার বিজ্ঞাপন এখানে