64°F মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মেনু

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশ, ইউনূসের সম্পদ বেড়েছে দেড় কোটির বেশি

বস্টন বাংলা অনলাইন ডেস্ক, Boston Bangla

প্রকাশ: ১০ ফেব ২০২৬ | নিউজটি দেখেছেন: ১
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশ, ইউনূসের সম্পদ বেড়েছে দেড় কোটির বেশি

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশ, ইউনূসের সম্পদ বেড়েছে দেড় কোটির বেশি

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদের বিবরণী প্রকাশ করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। মঙ্গলবার প্রকাশিত এই বিবরণীতে ২০২৪–২৫ অর্থবছরের অর্থাৎ গত বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত সম্পদের হিসাব তুলে ধরা হয়েছে। এতে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসসহ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, বিশেষ সহকারী ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার সম্পদের তথ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বিবরণী অনুযায়ী, গত ৩০ জুন পর্যন্ত প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৫ কোটি ৬২ লাখ ৪৪ হাজার ৬৫ টাকা। এক বছর আগে তাঁর সম্পদ ছিল ১৪ কোটি ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬৭৩ টাকা। সে হিসাবে এক বছরে তাঁর সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৬১ লাখ ৪ হাজার ৩৯২ টাকা। সঞ্চয়পত্র নগদায়ন, ব্যাংক আমানত বৃদ্ধি এবং উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত শেয়ারের কারণে এই বৃদ্ধি হয়েছে বলে সম্পদ বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে।

অধ্যাপক ইউনূসের আর্থিক সম্পদের পরিমাণ ১৪ কোটি ৭৬ লাখ ৬৪ হাজার ৪০১ টাকা এবং নন-ফাইন্যান্সিয়াল সম্পদ রয়েছে ২১ লাখ ৬ হাজার ২৫০ টাকা। দেশের বাইরে তাঁর সম্পদের পরিমাণ ৬৪ লাখ ৭৩ হাজার ৪১৪ টাকা। তাঁর নামে কোনো দায়দেনার তথ্য নেই।

তাঁর স্ত্রী আফরোজী ইউনূসের মোট সম্পদ ১ কোটি ২৭ লাখ ৬৩ হাজার ৩৬০ টাকা, যা আগের অর্থবছরে ছিল ২ কোটি ১১ লাখ ৭৭ হাজার ২৭৪ টাকা। ফলে এক বছরে তাঁর সম্পদ কমেছে ৮৪ লাখ ১৩ হাজার ৯১৪ টাকা। তাঁর আর্থিক সম্পদ উল্লেখযোগ্যভাবে কমলেও নন-ফাইন্যান্সিয়াল সম্পদ বেড়েছে। তাঁর কোনো বিদেশি সম্পদ নেই, তবে ১৬ লাখ ৯৬ হাজার টাকার দায় রয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রকাশিত বিবরণীতে জানানো হয়, ২০২৩ সালের আয়কর আইন অনুযায়ী আর্থিক সম্পদের মধ্যে নগদ অর্থ, ব্যাংক আমানত, সঞ্চয়পত্র, শেয়ার ও লভ্যাংশ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আর নন-ফাইন্যান্সিয়াল সম্পদের আওতায় জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাট ও অন্যান্য স্থাবর সম্পদ ধরা হয়েছে।

উপদেষ্টা পরিষদের অন্য সদস্যদের মধ্যেও বেশির ভাগের সম্পদ বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের মোট সম্পদ ৭ কোটি ১৬ লাখ টাকার বেশি, যা আগের বছর ছিল ৭ কোটি ১০ লাখের বেশি। পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের সম্পদ বেড়ে হয়েছে ১৬ কোটি ২২ লাখ টাকার বেশি। আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের মোট সম্পদ ১ কোটি ৬০ লাখ টাকার বেশি এবং তাঁর স্ত্রীর সম্পদ ২ কোটি ৪৪ লাখ টাকার বেশি।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম, শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানসহ বেশির ভাগ উপদেষ্টার সম্পদ আগের বছরের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে। তবে পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে সম্পদের পরিমাণ কমেছে।

বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের মোট সম্পদ সবচেয়ে বেশি, যা ৯১ কোটি ৬৫ লাখ টাকার বেশি। সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদের সম্পদ ১০ কোটি ৯৩ লাখ টাকার বেশি, যদিও এক বছরে তাঁর ব্যক্তিগত দায় কমেছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতারের সম্পদ এক বছরে বেড়ে এক কোটির ঘর ছাড়িয়েছে।

বিশেষ সহকারী ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সম্পদের তথ্যও বিবরণীতে যুক্ত করা হয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদেশি সম্পদের পাশাপাশি বৈদেশিক দায়ের তথ্যও প্রকাশ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সরকার পরিবর্তনের পর ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। একই মাসে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি সব উপদেষ্টার সম্পদের বিবরণী প্রকাশের ঘোষণা দেন। দীর্ঘদিন পর এই বিবরণী প্রকাশ হওয়ায় সরকারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির প্রশ্নে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।