64°F মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মেনু

অপ্রকাশিত বই নিয়ে বিতর্ক: নরবনের বই কীভাবে বিরোধীদের হাতে, তদন্তে দিল্লি পুলিশ

বস্টন বাংলা অনলাইন ডেস্ক, Boston Bangla

প্রকাশ: ১১ ফেব ২০২৬ | নিউজটি দেখেছেন: ৩৬
অপ্রকাশিত বই নিয়ে বিতর্ক: নরবনের বই কীভাবে বিরোধীদের হাতে, তদন্তে দিল্লি পুলিশ

অপ্রকাশিত বই নিয়ে বিতর্ক: নরবনের বই কীভাবে বিরোধীদের হাতে, তদন্তে দিল্লি পুলিশ

ভারতের সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল মনোজ মুকুন্দ নরবনের লেখা একটি অপ্রকাশিত আত্মজীবনী কীভাবে বিরোধী নেতাদের হাতে পৌঁছাল, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে দিল্লি পুলিশ। গত সোমবার এ বিষয়ে একটি এফআইআর রুজু করা হয়েছে। বইটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হয়নি-এমন দাবি প্রকাশকের-এই অবস্থায় লোকসভার বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধীর কাছে বইটির কপি কীভাবে এল, সেটিই তদন্তের মূল বিষয়।

বিষয়টি সামনে আসার পর থেকেই সংসদে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। লোকসভায় রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর বিতর্ক চলাকালে রাহুল গান্ধী ওই বইয়ের কিছু অংশ উদ্ধৃত করতে চাইলে সরকারপক্ষের আপত্তিতে তাঁকে বারবার বাধা দেওয়া হয়। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, কয়েকজন বিরোধী সংসদ সদস্যকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়।

এই ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দেন বিরোধীরা। কংগ্রেসের গৌরব গগৈ ও কে সুরেশ প্রস্তাবটি পেশ করেন, যাতে ১১৮ জন বিরোধী সাংসদের সই রয়েছে। যদিও সংখ্যাগত কারণে এই প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলেই মনে করা হচ্ছে।

দিল্লি পুলিশ এফআইআর রুজু করার দিনই বইটির প্রকাশক পেঙ্গুইন র‍্যানডম হাউস এক বিবৃতিতে জানায়, ‘ফোর স্টারস অব ডেস্টিনি’ শীর্ষক ওই আত্মজীবনী এখনো মুদ্রিত বা ডিজিটাল কোনো ফরম্যাটেই প্রকাশিত হয়নি। প্রকাশকের দাবি, বইটি বিক্রি বা বিতরণও করা হয়নি। তবে এদিকে ৪৪৮ পৃষ্ঠার বইটির একটি পিডিএফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

এর মধ্যেই সংসদ ভবন চত্বরে রাহুল গান্ধী সাবেক সেনাপ্রধানের একটি পুরোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে মনোজ নরবনে নিজেই লিখেছিলেন, তাঁর বই অ্যামাজনে পাওয়া যাচ্ছে এবং পাঠকদের তা পড়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। রাহুলের দাবি, প্রকাশকের বক্তব্য ও নরবনের ওই বক্তব্যের মধ্যে স্পষ্ট অসংগতি রয়েছে। তাঁর ভাষায়, দুজনের একজন সত্য বলছেন, আর তিনি নরবনেকেই বিশ্বাস করছেন।

প্রকাশকের বিবৃতির পর দিল্লি পুলিশের তদন্ত আরও বিস্তৃত হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। তদন্তকারীরা জানতে চাইতে পারেন, বইটি প্রকাশিত না হলে রাহুল গান্ধী সেই কপি কীভাবে পেলেন এবং কীভাবে তার পিডিএফ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ল।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের জুনে পূর্ব লাদাখের গালওয়ানে ভারত ও চীনের সেনাবাহিনীর সংঘর্ষের সময় মনোজ নরবনে ছিলেন ভারতের সেনাপ্রধান। ২০২২ সালে অবসর নেওয়ার পর তিনি এই বইটি লেখেন। তবে ভারত সরকার এখনো বইটি প্রকাশের অনুমতি দেয়নি। দেড় বছরের বেশি সময় ধরে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় কেন ছাড়পত্র দিচ্ছে না, সে বিষয়ে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।

সম্প্রতি ভারতের ইংরেজি সাময়িকী ‘ক্যারাভান’-এ বইটির কিছু অংশ প্রকাশিত হয়। সেখানে দাবি করা হয়েছে, গালওয়ান সংঘর্ষের সময় চীনা সেনাদের অগ্রগতি নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে রাজনৈতিক নেতৃত্বের কাছ থেকে স্পষ্ট নির্দেশ না পেয়ে সেনাপ্রধান এক ধরনের অসহায় অবস্থার মুখে পড়েছিলেন। এই অংশ উদ্ধৃত করেই সংসদে বক্তব্য দিতে চেয়েছিলেন রাহুল গান্ধী।

সরকারপক্ষের দাবি, জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো বিষয় অপ্রকাশিত বই বা সংবেদনশীল গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃত করা অনুচিত। স্পিকার ওম বিড়লা সেই যুক্তি মেনে রাহুলকে বক্তব্য দিতে দেননি। অন্যদিকে বিরোধীদের অভিযোগ, এটি সংসদীয় গণতন্ত্রের জন্য নজিরবিহীন ঘটনা।

এই বিতর্কের জেরে একাধিক দিন লোকসভার অধিবেশন মুলতবি হয়েছে। এমনকি রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ জ্ঞাপন প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জবাবি ভাষণ ছাড়াই পাস হয়, যা সংসদীয় ইতিহাসে বিরল ঘটনা বলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

সব মিলিয়ে, অপ্রকাশিত বইয়ের কপি কীভাবে প্রকাশ্যে এল, সরকার কেন এখনো বইটির অনুমতি দেয়নি এবং সংসদে বিরোধীদের কণ্ঠরোধের অভিযোগ-এই সব প্রশ্ন মিলিয়ে দিল্লি পুলিশের তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন রাজনৈতিক মহলের নজর।