অভিবাসন ইস্যুতে বাফেলোর মেয়রের নির্বাহী আদেশ, আইসিকে সহায়তায় নিষেধাজ্ঞা
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বাফেলো শহরের মেয়র শন রায়ান দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। এই আদেশ অনুযায়ী, ফেডারেল বেসামরিক অভিবাসন আইন বাস্তবায়নে সহায়তার জন্য শহরের কোনো কর্মচারী বা সরকারি সম্পদ ব্যবহার করা যাবে না।
মেয়র কার্যালয় জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য হলো-শহরের বাসিন্দারা যেন নগর সরকারের সঙ্গে যোগাযোগের সময় নিরাপদ ও নির্ভার বোধ করেন। সিটি হলে সেবা নিতে এসে কেউ যেন অভিবাসন সংক্রান্ত ভয়ের মুখে না পড়ে, সেটিই এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য।
এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে মেয়র শন রায়ান বলেন, “আমি বাফেলোর মানুষকে স্পষ্টভাবে জানাতে চাই-নগর সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করার সময় তারা নিরাপদ থাকবেন। আমরা চাই না, কেউ সিটি হলে আসতে ভয় পাক এই আশঙ্কায় যে, কেউ হয়তো অভিবাসন কর্তৃপক্ষকে খবর দেবে।”
তিনি আরও বলেন, এই আদেশ নতুন কোনো নীতি প্রণয়ন নয়; বরং বিদ্যমান নীতিমালাকে আইনি কাঠামোর মধ্যে এনে শহরের কর্মচারীদের দায়িত্ব ও অধিকার স্পষ্ট করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই সিদ্ধান্ত অপরাধ দমন কার্যক্রমে কোনো বাধা সৃষ্টি করবে না।
মেয়রের ভাষ্য অনুযায়ী, “অভিবাসন অবস্থান যাই হোক না কেন, সহিংস অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া অব্যাহত থাকবে।”
ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটির সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে, রায়ান বলেন, “ওয়াশিংটনের অস্থির নেতৃত্ব কী সিদ্ধান্ত নিতে পারে—সে ভয়ে আমি বাফেলোর মানুষকে সুরক্ষা দেওয়া থেকে পিছিয়ে থাকতে পারি না। আমাদের প্রথম দায়িত্ব হলো এই শহরের বাসিন্দাদের রক্ষা করা।”
এদিকে অভিবাসী অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন এই নির্বাহী আদেশকে স্বাগত জানিয়েছে। ‘জাস্টিস ফর মাইগ্রেন্ট ফ্যামিলিজ’-এর নির্বাহী পরিচালক জেনিফার কনর বলেন, বাফেলোর শক্তি তার বৈচিত্র্যের মধ্যেই নিহিত। তার মতে, “আমরা যেমন, ঠিক সেই কারণেই আমরা আরও শক্তিশালী। নিজেদের সুরক্ষার বিষয়টি ভয়ের কিছু নয়।”
অন্যদিকে ‘জেরিকো রোড কমিউনিটি হেলথ সার্ভিসেস’-এর অভিবাসী সেবা বিভাগের পরিচালক ম্যাট টাইস বলেন, সহজে সহায়তা পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি বলেন, “এই আদেশের ফলে মানুষ প্রয়োজনে সাহায্য ও স্বাস্থ্যসেবা নিতে নিরাপদ বোধ করবে-এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”
তবে এই সিদ্ধান্ত স্থানীয় রিপাবলিকান নেতৃত্বের সমালোচনার মুখে পড়েছে। এরি কাউন্টি রিপাবলিকান কমিটির চেয়ারম্যান মাইকেল ক্র্যাকার একে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তার অভিযোগ, এই আদেশে জননিরাপত্তার চেয়ে মতাদর্শকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “মেয়রের উচিত ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করা এবং বাফেলোর সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া।”
মেয়র কার্যালয় জানিয়েছে, এই নির্বাহী আদেশ তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে।
আপনার বিজ্ঞাপন এখানে