79°F শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মেনু

পারস্য উপসাগরে প্রথমবার চালকবিহীন নৌ ড্রোন মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রের

বস্টন বাংলা, Boston Bangla

প্রকাশ: ২৭ মার্চ ২০২৬ | নিউজটি দেখেছেন: ১৫
পারস্য উপসাগরে প্রথমবার চালকবিহীন নৌ ড্রোন মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রের

ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যে প্রথমবারের মতো সক্রিয় সামরিক অভিযানে চালকবিহীন ড্রোন স্পিডবোট বা নৌ ড্রোন মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

পেন্টাগনের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’–এর আওতায় এসব ড্রোন বর্তমানে পারস্য উপসাগরে টহল দিচ্ছে। মূলত গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা এবং প্রয়োজনে আক্রমণ পরিচালনার সক্ষমতা নিয়ে এগুলো মোতায়েন করা হয়েছে।

ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এটিই প্রথমবার, যখন কোনো সক্রিয় সামরিক পরিস্থিতিতে এ ধরনের চালকবিহীন নৌযান ব্যবহারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করা হলো।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, মেরিল্যান্ডভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের তৈরি এই ড্রোনগুলো ‘গ্লোবাল অটোনমাস রিকনাইস্যান্স ক্রাফট’ বা গার্ক নামে পরিচিত। ইতোমধ্যে এসব নৌ ড্রোন ৪৫০ ঘণ্টারও বেশি সময় সমুদ্রে টহল দিয়েছে এবং প্রায় ২ হাজার ২০০ নটিক্যাল মাইল পথ অতিক্রম করেছে। তবে এগুলো ব্যবহার করে কোনো সরাসরি হামলা চালানো হয়েছে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানায়নি পেন্টাগন।

এর আগে ইউক্রেন যুদ্ধে বিস্ফোরকবোঝাই নৌ ড্রোন ব্যবহারের মাধ্যমে রাশিয়ার নৌবহরে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির নজির দেখা গেছে। সেই অভিজ্ঞতাকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রও এই প্রযুক্তির ওপর গুরুত্ব বাড়াচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রশান্ত মহাসাগরে চীনের ক্রমবর্ধমান নৌশক্তির মোকাবিলায় তুলনামূলক কম খরচে দ্রুত মোতায়েনযোগ্য বিকল্প হিসেবে এমন ড্রোন বহর গড়ে তোলার চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে প্রকল্পটি নানা কারিগরি জটিলতা ও ব্যয় বৃদ্ধির কারণে নির্ধারিত সময়সূচি থেকে পিছিয়ে রয়েছে।

পরীক্ষামূলক পর্যায়ে এসব ড্রোনের একাধিক দুর্ঘটনার খবরও সামনে এসেছে। সাম্প্রতিক এক পরীক্ষায় একটি নৌ ড্রোন বিকল হয়ে পড়ার ঘটনাও জানা গেছে। যদিও এসব বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে অনীহা দেখিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

অন্যদিকে, গত এক মাসে ইরানের বিরুদ্ধেও তেলের ট্যাংকার লক্ষ্য করে নৌ ড্রোন ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলে সামুদ্রিক ড্রোন প্রযুক্তি ঘিরে নতুন এক প্রতিযোগিতা ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা।