রোকন পাঠান । বস্টন বাংলা
বাংলাদেশ ক্রিকেটে সাকিব আল হাসান এখন আর কেবল একজন ক্রিকেটার নন। তিনি একটি অধ্যায়, একটি বিতর্ক এবং একটি প্রতীক। আজ বিসিবি যখন আবার বলছে—“সাকিবকে জাতীয় দলে বিবেচনা করা হবে”—তখন সেই বক্তব্যের ভেতরে ক্রিকেটের চেয়ে রাজনীতির ভাষাই বেশি শোনা যাচ্ছে।
বিসিবির অবস্থান: হ্যাঁ, তবে শর্তসাপেক্ষ
Bangladesh Cricket Board জানিয়েছে, সাকিব আল হাসান ফিট থাকলে, দলের প্রয়োজন হলে এবং মাঠে উপস্থিত থাকতে পারলে তাকে আবার জাতীয় দলে বিবেচনা করা হবে। এই তিনটি শর্তই আসলে পুরো বিষয়টির মূল চাবিকাঠি।
ক্রিকেটের প্রশ্ন নয়, প্রশ্ন উপস্থিতির
সাকিবের ক্রিকেট সামর্থ্য নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। প্রশ্ন হচ্ছে—তিনি কখন, কোথায় এবং কী শর্তে খেলতে পারবেন। গত দুই বছরে তিনি দেশের বাইরে অবস্থান করায় তার নিয়মিত উপস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
রাজনীতি ও ক্রিকেটের অদৃশ্য সীমানা
সাকিবের ক্ষেত্রে ক্রিকেট ও রাজনীতি একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে। তার রাজনৈতিক পরিচয় ও অবস্থান তাকে এমন এক বাস্তবতায় দাঁড় করিয়েছে, যেখানে প্রতিটি নির্বাচনী সিদ্ধান্ত ব্যাখ্যার দাবি তোলে।
নির্বাচকদের হিসাব
নির্বাচকরা ঝুঁকি নিতে চাইছেন না। তারা চান, সাকিবের সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন যেন দলের ভেতরে বিভাজন বা আন্তর্জাতিক বিতর্ক তৈরি না করে।
ভক্তদের বিভক্ত প্রতিক্রিয়া
এক পক্ষ মনে করে সাকিব ছাড়া বাংলাদেশ ক্রিকেট অসম্পূর্ণ। অন্য পক্ষ মনে করে এখন সামনে তাকানোর সময়। এই বিভাজনই প্রমাণ করে বিষয়টি কেবল ক্রিকেটীয় নয়, মানসিক ও সাংস্কৃতিকও।
সাকিব আল হাসানের জন্য দরজা খোলা আছে, কিন্তু চাবি পুরোপুরি তার হাতে নেই। ক্রিকেটীয় ফর্মের পাশাপাশি সময়, পরিস্থিতি এবং সমঝোতাই ঠিক করবে তিনি ফিরবেন কি না।
আপনার বিজ্ঞাপন এখানে