77°F মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মেনু

সারাদেশে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন

বস্টন বাংলা অনলাইন ডেস্ক, Boston Bangla

প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২৬ | নিউজটি দেখেছেন: ৫
সারাদেশে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন

রাজধানী থেকে মফস্বল; শোভাযাত্রা, লোকজ মেলা ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে মুখর দেশ; ময়মনসিংহে নগরজুড়ে উৎসবের আমেজ

আজ ১৪ এপ্রিল ২০২৬, বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩-এর প্রথম দিন। উৎসবমুখর পরিবেশে নতুন বছরকে বরণ করে নিয়েছে সমগ্র বাংলাদেশ। রাজধানী থেকে শুরু করে জেলা-উপজেলা, এমনকি প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেও বৈশাখী শোভাযাত্রা, লোকজ মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং ঐতিহ্যবাহী আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপিত হয়েছে।

রাজধানী ঢাকায় সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে রমনা বটমূলে ছায়ানটের প্রভাতী গানের মাধ্যমে দিনের সূচনা হয়। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে বের হয় ঐতিহ্যবাহী মঙ্গল শোভাযাত্রা, যেখানে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বার্তা তুলে ধরা হয়। রঙিন মুখোশ, পুতুল, গ্রামীণ জীবনচিত্র ও প্রতীকী উপস্থাপনায় শোভাযাত্রাটি নগরবাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

চট্টগ্রামে শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী জব্বারের বলীখেলা লালদীঘি ময়দানে অনুষ্ঠিত হয়, যা দেখতে হাজারো দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে। পাশাপাশি ডিসি হিল ও সিআরবি এলাকায় দিনব্যাপী গান, নৃত্য ও লোকজ পরিবেশনায় উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে।

কুষ্টিয়ায় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বনবিথি প্রাঙ্গণে খড়ের ঘর আদলে তৈরি মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে পান্তা-ইলিশসহ ঐতিহ্যবাহী খাবারের আয়োজন ছিল দর্শনার্থীদের জন্য অন্যতম আকর্ষণ।

পিরোজপুর, নওগাঁ, রাজশাহী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়ও নানা ব্যতিক্রমী আয়োজন লক্ষ্য করা গেছে। নওগাঁয় নৌকায় বৈশাখী শোভাযাত্রা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় লাঠিখেলা ও গ্রামীণ মেলা, রাজশাহীতে লোকজ খেলা এবং রংপুরে বটতলায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

ময়মনসিংহে বর্ণাঢ্য আয়োজন-

ময়মনসিংহ জেলা ও সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে এ বছর নববর্ষ উদযাপন ছিল বিশেষভাবে আয়োজনমুখর। সকালে নগরীর সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গণ থেকে বের হয় বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা, যা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে টাউন হল প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় অংশ নেয় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক সংগঠন, সামাজিক প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষ।

শহরের টাউন হল ও শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে স্থানীয় শিল্পীরা গান, নৃত্য, কবিতা আবৃত্তি ও নাট্য পরিবেশনার মাধ্যমে দর্শকদের মুগ্ধ করেন। শিশুদের জন্য ছিল চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও গ্রামীণ খেলাধুলা।

ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধানে নগরজুড়ে পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। বিভিন্ন স্থানে বসানো হয় বৈশাখী মেলা, যেখানে হস্তশিল্প, মাটির তৈরি সামগ্রী, বাঁশ-বেতের পণ্য এবং ঐতিহ্যবাহী খাবারের দোকান দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে।

গ্রামাঞ্চলে প্রাণের উৎসব-

গ্রামীণ জনপদে নববর্ষ উদযাপন ছিল আরও প্রাণবন্ত ও লোকজ সংস্কৃতিনির্ভর। বিভিন্ন এলাকায় বসেছে বৈশাখী মেলা, অনুষ্ঠিত হয়েছে হালখাতা, পুতুলনাচ, নাগরদোলা, লাঠিখেলা, বাউল গানসহ নানা আয়োজন। ব্যবসায়ীরা পুরনো হিসাব বন্ধ করে নতুন খাতা খুলে মিষ্টি বিতরণের মাধ্যমে গ্রাহকদের সঙ্গে সম্পর্ক নবায়ন করেন।

সরকারি উদ্যোগ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা-

নববর্ষ উপলক্ষে সরকারিভাবে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। দেশের সকল কারাগার, হাসপাতাল ও এতিমখানায় উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়। জাদুঘর ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়।

উৎসবকে ঘিরে সারা দেশে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। পুলিশ, র‍্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মাঠে অবস্থান করে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে তা নিশ্চিত করেন।

সম্প্রীতির বার্তা-

বাংলা নববর্ষ কেবল একটি উৎসব নয়, এটি বাঙালির ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতীক। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের অংশগ্রহণে দিনটি পরিণত হয়েছে মিলনমেলায়।

নতুন বছরের শুরুতে দেশবাসীর প্রত্যাশা; শান্তি, সমৃদ্ধি ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে এগিয়ে যাক বাংলাদেশ।