শীর্ষ সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের আইনের আওতায় আনা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
দেশের শীর্ষ সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রোববার দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
চট্টগ্রামের গোলাগুলির ঘটনায় অগ্রগতি
মন্ত্রী জানান, শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম–এ সংঘটিত গোলাগুলির ঘটনায় জড়িত সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করা হয়েছে এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করছে। তিনি বলেন, দুই মাস আগে একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ এক ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবি করেছিল। এরপর পুলিশ কমিশনার ওই ব্যবসায়ীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। এতে সুবিধা না পেয়ে একই গ্রুপ পুনরায় ভারী অস্ত্র নিয়ে হামলার ঘটনা ঘটায়।
আইনশৃঙ্খলায় ‘দৃশ্যমান উন্নতি’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ১৩ দিনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, নরসিংদী–তে একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যান্য ঘটনাতেও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
সেনাবাহিনী ও র্যাব নিয়ে আলোচনা
সেনাবাহিনী কত দিন মাঠে থাকবে—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি উচ্চপর্যায়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সেনাবাহিনীর নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য কার্যক্রমের স্বার্থেও দীর্ঘদিন মাঠে থাকা উচিত নয় বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।
র্যাবের নাম ও পোশাক পরিবর্তনের প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, র্যাব একটি বিশেষায়িত বাহিনী এবং এটি রাখা প্রয়োজন। তবে বাহিনীর কাঠামো, জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বাস্তবতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
‘জুলাই গণ–অভ্যুত্থান’ সংশ্লিষ্টদের সুরক্ষা
মন্ত্রী আরও বলেন, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের আইনি ও সাংবিধানিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে। এ বিষয়ে দেওয়া অঙ্গীকার অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
১৩৩টি অধ্যাদেশ সংসদে উপস্থাপন
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের বিষয়ে তিনি জানান, জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই এসব অধ্যাদেশ উপস্থাপন করা হবে। এর মধ্যে কিছু স্পর্শকাতর বিষয় রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ভারত ও পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ
সকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা। দুপুরে সাক্ষাৎ করেন পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার।
মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে আলোচনায় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগের ভিত্তিতে জোরদার করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। সীমান্তে হত্যার সংখ্যা দ্রুত শূন্যে নামিয়ে আনার অনুরোধও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়, আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
আপনার বিজ্ঞাপন এখানে