64°F বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মেনু

সহঅভিনেত্রীদের নিয়ে অকপট প্রসেনজিৎ: কারও অভিনয়ে ভয়, কারও অভ্যাসে মজা

বস্টন বাংলা অনলাইন ডেস্ক, Boston Bangla

প্রকাশ: ৩১ জানু ২০২৬ | নিউজটি দেখেছেন: ৯
সহঅভিনেত্রীদের নিয়ে অকপট প্রসেনজিৎ: কারও অভিনয়ে ভয়, কারও অভ্যাসে মজা

সহঅভিনেত্রীদের নিয়ে অকপট প্রসেনজিৎ: কারও অভিনয়ে ভয়, কারও অভ্যাসে মজা

টালিউডে তিন দশকের বেশি সময় ধরে একচ্ছত্র আধিপত্য। বাংলা সিনেমার ‘ইন্ডাস্ট্রি’ বললেই যাঁর নাম সবার আগে আসে, তিনি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। সম্প্রতি এক আড্ডায় নিজের সহঅভিনেত্রীদের নিয়ে খোলামেলা ও মজার মন্তব্যে আলোচনায় এলেন এই সুপারস্টার। ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত থেকে জয়া আহসান, রাইমা সেন থেকে সুদীপ্তা চক্রবর্তী—কারও কথাই বাদ রাখেননি তিনি।

আড্ডায় সবচেয়ে চমকপ্রদ মন্তব্যটি আসে জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী সুদীপ্তা চক্রবর্তীকে ঘিরে। প্রসেনজিতের স্বীকারোক্তি, পর্দায় যতই শক্ত চরিত্রে অভিনয় করুন না কেন, সুদীপ্তার সঙ্গে কাজ করতে তিনি নাকি সত্যিই ভয় পান। অভিনেতার ভাষায়, সুদীপ্তার অভিনয়ের গভীরতা ও অপ্রত্যাশিত ডেলিভারি তাকে একই সঙ্গে ভীত ও ঈর্ষান্বিত করে।

‘জ্যেষ্ঠপুত্র’ সিনেমার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে প্রসেনজিৎ জানান, শুটিংয়ের কয়েকদিন আগেই বাবাকে হারিয়েছিলেন সুদীপ্তা। অথচ ক্যামেরার সামনে বাবার মৃতদেহের দৃশ্যে তার অভিনয় এতটাই বাস্তব ছিল যে, সেটে উপস্থিত অনেকেই আবেগ ধরে রাখতে পারেননি।

ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তকে নিয়ে বরাবরের মতো রসিকতাও করেন তিনি। তার দেরিতে আসার অভ্যাস নিয়ে কটাক্ষ করে বলেন, সকাল ১০টার কল টাইম মানে ঋতুপর্ণার জন্য প্রায় রাত পর্যন্ত অপেক্ষা।

রাইমা সেনকে প্রসেনজিৎ বর্ণনা করেন একেবারে শিশুসুলভ একজন মানুষ হিসেবে। একটু বকুনি খেলেই চোখে জল চলে আসে, তবে কান্নার দৃশ্যে রাইমার অভিনয় নাকি অনবদ্য।

রচনা ব্যানার্জির পেশাদারিত্বের প্রশংসায় মুখর হন ‘বুম্বাদা’। তার মতে, রচনার মতো নিয়ম মেনে কাজ করা শিল্পী খুব কমই দেখা যায়। শুটিং চলাকালে নির্দিষ্ট সময়ের পর কিছু না খাওয়ার কঠোর নিয়ম এবং টিফিন ক্যারিয়ার ভর্তি খাবার নিয়ে সেটে আসার পুরোনো অভ্যাসের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান সম্পর্কে প্রসেনজিতের মন্তব্য ছিল বেশ মজাদার। তিনি বলেন, জয়া প্রচুর মিষ্টি—বিশেষ করে রসগোল্লা খেতে ভালোবাসেন, অথচ তার শরীরে তার কোনো ছাপ পড়ে না। পাশাপাশি তিনি জয়াকে অত্যন্ত হিসেবি ও প্রস্তুত অভিনেত্রী হিসেবেও উল্লেখ করেন।

অন্য সহশিল্পীদের প্রসঙ্গেও প্রশংসা করেন প্রসেনজিৎ। শ্রাবন্তীর মিমিক্রি করার ক্ষমতার কথা উল্লেখ করে বলেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি এই প্রতিভা দেখছেন। পাওলি দামের ক্ষেত্রে বলেন, সিরিয়াস চরিত্রের বাইরে কমেডিতেও পাওলি সমান দক্ষ। আর অপরাজিতা আঢ্য সেটে ঢুকলেই যেন এক ধরনের ইতিবাচক শক্তি ছড়িয়ে পড়ে—এমন মন্তব্য করেন তিনি।

সবশেষে ‘শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ’ যদি নতুন করে নির্মাণ হয়, তবে কারা থাকবেন—এমন প্রশ্নে কৌশলী উত্তর দেন প্রসেনজিৎ। তিনি জানান, দেব, জিৎ, অঙ্কুশ কিংবা বনি—সবাইকে নিয়ে একটি মাল্টিস্টার কাস্ট দেখতেই তার বেশি আগ্রহ।