ভারতের সাবেক উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড়ের পদত্যাগ ঘিরে দীর্ঘদিনের জল্পনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে শিবসেনা (উদ্ধব) নেতা ও রাজ্যসভার সদস্য সঞ্জয় রাউতের একটি বই।
সম্প্রতি প্রকাশিত তাঁর মারাঠি বইয়ের ইংরেজি অনুবাদ ‘আনলাইকলি প্যারাডাইস’–এ রাউত দাবি করেছেন, ধনখড়ের পদত্যাগ কেবল ব্যক্তিগত বা স্বাস্থ্যগত কারণে হয়নি; বরং রাজনৈতিক চাপের মুখে তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।
বইয়ে রাউতের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছিলেন ধনখড়—এমন আশঙ্কা থেকে ভারতের অর্থপাচারবিরোধী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) সক্রিয় হয়ে ওঠে। তাঁর দাবি, ধনখড় ও তাঁর পরিবারের আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য সামনে এনে চাপ সৃষ্টি করা হয়, যা শেষ পর্যন্ত তাঁকে পদত্যাগে বাধ্য করে।
তবে ধনখড়ের পদত্যাগের সময় সরকারি ব্যাখ্যায় বলা হয়েছিল, তিনি শারীরিক অসুস্থতার কারণে দায়িত্ব ছাড়েন। উল্লেখযোগ্যভাবে, তিনিই ভারতের প্রথম উপরাষ্ট্রপতি, যিনি মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই পদত্যাগ করেন।
বইটিতে আরও কয়েকটি আলোচিত রাজনৈতিক প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সাবেক নির্বাচন কমিশনার অশোক লাভাসার পদত্যাগের ঘটনা। রাউতের দাবি, ২০১৯ সালের সাধারণ নির্বাচনের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ভিন্নমত দেওয়ায় লাভাসার ওপরও চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। পরবর্তীতে তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয় এবং তিনি পদত্যাগ করেন।
এছাড়া গুজরাট দাঙ্গা-পরবর্তী সময়, নরেন্দ্র মোদির সম্ভাব্য গ্রেপ্তার প্রসঙ্গ এবং সে সময়ের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শরদ পাওয়ারের অবস্থান সম্পর্কেও বইয়ে উল্লেখ রয়েছে। একই সঙ্গে অমিত শাহকে ঘিরে অতীতের একটি মামলার প্রসঙ্গ টেনে বিভিন্ন রাজনৈতিক যোগাযোগের কথাও তুলে ধরেছেন রাউত।
সোমবার নয়াদিল্লিতে বইটির ইংরেজি সংস্করণের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা, যার মধ্যে ছিলেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল, দিগ্বিজয় সিং, ডেরেক ও’ব্রায়ান ও কপিল সিব্বাল।
রাউতের এসব দাবি নিয়ে এখনও সরকার বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে রাজনৈতিক মহলে বইটি নতুন করে বিতর্ক ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
আপনার বিজ্ঞাপন এখানে