61°F রবিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মেনু

ভেনেজুয়েলা অভিযানের পর লাতিন আমেরিকায় উত্তেজনা, ট্রাম্পকে প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট পেত্রোর

বস্টন বাংলা অনলাইন ডেস্ক, Boston Bangla

প্রকাশ: ০৮ ফেব ২০২৬ | নিউজটি দেখেছেন: ১৮
ভেনেজুয়েলা অভিযানের পর লাতিন আমেরিকায় উত্তেজনা, ট্রাম্পকে প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট পেত্রোর

ভেনেজুয়েলা অভিযানের পর লাতিন আমেরিকায় উত্তেজনা, ট্রাম্পকে প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট পেত্রোর

ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের পর লাতিন আমেরিকাজুড়ে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সরাসরি ও প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো। এক কড়া ও আবেগঘন বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘এসে ধরুন আমাকে। আমি এখানেই আপনাদের জন্য অপেক্ষা করছি।’

স্থানীয় সময় সোমবার (৫ জানুয়ারি) ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযানের তীব্র নিন্দা জানিয়ে পেত্রো সতর্ক করেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি বোমা হামলা চালায়, তাহলে অঞ্চলজুড়ে ভয়াবহ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হবে। তার ভাষায়, পাহাড়ি এলাকায় বসবাসরত হাজার হাজার কৃষক তখন গেরিলায় রূপ নেবে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র এমন একজন রাষ্ট্রপ্রধানকে গ্রেপ্তার করে, যাঁকে দেশের একটি বড় অংশ সম্মান ও ভালোবাসে, তাহলে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ। তিনি রূপক অর্থে বলেন, এতে ‘জনগণের জাগুয়ার’ মুক্ত হয়ে পড়বে, যা রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতার জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

একসময় বামপন্থী গেরিলা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থাকা গুস্তাভো পেত্রো স্মরণ করিয়ে দেন, তিনি নব্বইয়ের দশকে অস্ত্র ত্যাগ করার শপথ নিয়েছিলেন। তবে দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়লে সেই শপথ ভাঙতেও তিনি দ্বিধা করবেন না বলে মন্তব্য করেন। পেত্রো বলেন, ‘আমি প্রতিজ্ঞা করেছিলাম আর অস্ত্র ধরব না। কিন্তু মাতৃভূমির প্রয়োজনে হলে সেই শপথ ভাঙতেও পিছপা হব না।’

এই বক্তব্যের কয়েক দিন আগে, গত রোববার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডোনাল্ড ট্রাম্প কলম্বিয়া সম্পর্কে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, কলম্বিয়া বর্তমানে একজন ‘অসুস্থ মানসিকতার মানুষের’ দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে, যিনি যুক্তরাষ্ট্রে কোকেন বিক্রির সঙ্গে জড়িত। ট্রাম্প বলেন, কলম্বিয়া একটি দুর্বল রাষ্ট্র এবং এর নেতৃত্ব এমন একজনের হাতে, যিনি মাদক উৎপাদন ও বিক্রিতে আনন্দ পান। এমন পরিস্থিতিতে দেশটি বেশিদিন টিকে থাকতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এ সময় ট্রাম্প আরও বলেন, কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তাব তার কাছে ‘খারাপ মনে হচ্ছে না’। এই মন্তব্যই মূলত দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনাকে আরও উসকে দিয়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

চরম উত্তেজনার এই পরিস্থিতিতে কলম্বিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, দেশটি সংলাপ, সহযোগিতা ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী। তবে হুমকি, চাপ বা সামরিক শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সম্পর্ক পরিচালনাকে কলম্বিয়া সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

উল্লেখ্য, গত অক্টোবরে ডোনাল্ড ট্রাম্প গুস্তাভো পেত্রো ও তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে মাদক পাচারের অভিযোগ তুলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিলেন। যদিও কলম্বিয়া সরকার এসব অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করে আসছে। বাস্তবতা হলো, কলম্বিয়া বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় কোকেন উৎপাদক দেশ, যা দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক রাজনীতির একটি স্পর্শকাতর ইস্যু।

এদিকে, এই ঘটনা লাতিন আমেরিকায় সাম্প্রতিক অতীতের স্মৃতি নতুন করে উসকে দিয়েছে। গত আগস্টে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোও একইভাবে ট্রাম্পকে ‘এসে ধরুন’ বলে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী গ্রেপ্তার হন, যা পুরো অঞ্চলে তীব্র ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করে।

বিশ্লেষকদের মতে, ভেনেজুয়েলার ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে কলম্বিয়াসহ পুরো লাতিন আমেরিকায় রাজনৈতিক অস্থিরতা, সহিংসতা ও যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী মনোভাব আরও গভীর আকার ধারণ করতে পারে।