64°F মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মেনু

ভোট উৎসবে ঘরমুখী মানুষের ঢল, ট্রেন-বাসে ঈদের মতো ভিড়

বস্টন বাংলা অনলাইন ডেস্ক, Boston Bangla

প্রকাশ: ১০ ফেব ২০২৬ | নিউজটি দেখেছেন: ২৮
ভোট উৎসবে ঘরমুখী মানুষের ঢল, ট্রেন-বাসে ঈদের মতো ভিড়

ভোট উৎসবে ঘরমুখী মানুষের ঢল, ট্রেন-বাসে ঈদের মতো ভিড়

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে সারা দেশে তৈরি হয়েছে ভোট উৎসবের আমেজ। আগামীকাল বৃহস্পতিবার ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ায় নির্বাচনের আগে ও পরে ঘোষিত টানা চার দিনের ছুটিতে রাজধানী ঢাকা ছেড়ে গ্রামের বাড়ির পথে রওনা হচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ। ফলে ট্রেন, বাস ও লঞ্চে দেখা গেছে ঈদের ছুটির মতো যাত্রীচাপ।

মঙ্গলবার সকাল থেকে কমলাপুর রেলস্টেশনসহ ঢাকার বিভিন্ন বাস ও রেল টার্মিনালে মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। অনেক যাত্রী টিকিট বা আসন না পেয়ে ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনের ছাদে ওঠেন। কোথাও কোথাও অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে যানজটেরও সৃষ্টি হয়।

কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে সিরাজগঞ্জগামী ট্রেনে ওঠা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ভোট দিতে নিজ নিজ এলাকায় যেতে মানুষ উৎসবমুখর মনোভাবেই বের হয়েছেন। তবে পর্যাপ্ত ট্রেন না থাকায় অনেককে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। তাঁর মতে, ঈদের মতো বিশেষ ট্রেন চালু করা হলে এই চাপ অনেকটাই কমানো যেত।

প্রথমবার ভোট দিতে ময়মনসিংহে যাচ্ছেন রুমান হাসান। তিনি বলেন, প্রতিদিন আলাদা করে বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা থাকলে যাত্রীদের এমন কষ্ট পোহাতে হতো না। এখনো সময় আছে, দ্রুত ব্যবস্থা নিলে মানুষের উপকার হতো।

কিশোরগঞ্জে ভোট দিতে যাচ্ছেন সাবিহা সুলতানা। বাবার সঙ্গে ট্রেনের বগির দরজার পাশে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, কোনোমতে উঠতে পেরেছেন, নিরাপদে বাড়িতে পৌঁছাতে পারলেই স্বস্তি পাবেন।

গাজীপুরের টঙ্গী রেলস্টেশনে মঙ্গলবার সাধারণ দিনের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি যাত্রীর চাপ ছিল। প্রায় সব ট্রেনেই অতিরিক্ত ভিড় দেখা যায়। ভেতরে জায়গা না পেয়ে অনেক শ্রমজীবী মানুষ ট্রেনের ছাদেই যাত্রা শুরু করেন।

কমলাপুর রেলস্টেশনের এক কর্মকর্তা জানান, সোমবার থেকেই ঘরমুখী মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। সব ট্রেন নির্ধারিত সময়েই ছেড়ে গেলেও যাত্রীদের চাপ সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে। রেলওয়ের পক্ষ থেকে ছাদে ওঠার অনুমতি না থাকলেও অনেক যাত্রী ঝুঁকি নিচ্ছেন।

নির্বাচন উপলক্ষে ঘোষিত ছুটিতে গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকেরা একযোগে বাড়ির পথে রওনা দেওয়ায় গাজীপুরের ঢাকা–টাঙ্গাইল ও ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়।

কালিয়াকৈরের চন্দ্রা, সফিপুর, মৌচাক ও কোনাবাড়ী এলাকায় সকাল থেকেই যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। চন্দ্রা মোড় থেকে দুই দিকে প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকায় যানবাহন ধীরগতিতে চলতে থাকে।

মিরপুরের এক পোশাকশ্রমিক রফিকুল ইসলাম জানান, ভোট দেওয়ার জন্য ছুটি পেয়ে সকালে রওনা দিলেও দীর্ঘ সময় একই জায়গায় আটকে থাকতে হচ্ছে। কখন বাড়িতে পৌঁছাবেন, তা নিয়ে তিনি অনিশ্চয়তায় ভুগছেন।

গৃহকর্মী হাসিনা বেগম বলেন, ভোট দেওয়ার জন্য ছোট সন্তান নিয়ে এই ভোগান্তি মেনে নিতে হচ্ছে, তবে দীর্ঘ যানজটে কষ্ট আরও বেড়েছে।

ঢাকার কল্যাণপুর, গাবতলীসহ বিভিন্ন বাস টার্মিনালে যাত্রীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। যাত্রীর তুলনায় যানবাহনের সংখ্যা কম থাকায় অনেকে গাড়ির সংকটে পড়েন। কোথাও কোথাও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগও শোনা যায়।

একই চিত্র দেখা গেছে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালেও। সাধারণ দিনের তুলনায় সেখানে কয়েক গুণ বেশি যাত্রী উপস্থিত ছিলেন এবং দিনভর বিভিন্ন গন্তব্যে লঞ্চ ছেড়ে গেছে।

ভোট সামনে রেখে এই ঘরমুখী মানুষের ঢল প্রমাণ করছে—ভোটাধিকার প্রয়োগে দেশের মানুষ আগ্রহী। তবে পরিবহন সংকট ও যানজট অনেকের জন্য এই যাত্রাকে কষ্টকর করে তুলেছে।