79°F শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মেনু

যুদ্ধে মনোযোগ দিতে নিজের দুর্নীতির বিচার বন্ধ চান নেতানিয়াহু

বস্টন বাংলা, Boston Bangla

প্রকাশ: ১৪ মার্চ ২০২৬ | নিউজটি দেখেছেন: ১৬
যুদ্ধে মনোযোগ দিতে নিজের দুর্নীতির বিচার বন্ধ চান নেতানিয়াহু

ইরানের সঙ্গে রক্তক্ষয়ী সংঘাত শুরুর ১২ দিন পর প্রথমবারের মতো প্রকাশ্য সংবাদ সম্মেলনে হাজির হলেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আয়োজিত এই দীর্ঘ সংবাদ সম্মেলনে তিনি যুদ্ধের ময়দানের পরিস্থিতির চেয়েও নিজের ব্যক্তিগত আইনি লড়াই ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে বেশি সরব ছিলেন।

দুর্নীতির মামলাকে ‘সার্কাস’ আখ্যা

দীর্ঘদিন ধরে চলা নিজের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলাগুলোকে ‘অযৌক্তিক সার্কাস’ বলে অভিহিত করেছেন নেতানিয়াহু। তিনি ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই বিচারপ্রক্রিয়া অবিলম্বে বন্ধ করে তাকে যেন সাধারণ ক্ষমা প্রদান করা হয়।

নেতানিয়াহুর দাবি, বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এবং আঞ্চলিক কূটনীতিতে পূর্ণ মনোযোগ দেওয়ার জন্য এই আইনি বাধা দূর করা জরুরি। তিনি বলেন, “প্রেসিডেন্টকে কেবল ‘সঠিক কাজটি’ করতে হবে। এই মামলা শেষ করা উচিত যাতে আমি কোনো পিছুটান ছাড়াই রাষ্ট্রের শত্রুদের পরাজিত করা এবং শান্তি ও সমৃদ্ধির জোটে মনোযোগ দিতে পারি।”

প্রেসিডেন্টের টেবিলে ক্ষমার আবেদন

প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ বর্তমানে নেতানিয়াহুর এই ক্ষমার আবেদনটি পর্যালোচনা করছেন। প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, বর্তমান সংকটময় মুহূর্তে তার সময় ও শ্রম আদালতের বারান্দায় নষ্ট হওয়া রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “সামনে অনেক বড় কাজ রয়েছে। আমি কোনো ধরনের বাধা বা বিভ্রান্তি ছাড়াই দেশের জন্য কাজ করতে চাই।”

তথ্য বিভ্রাট ও জনরোষ

যুদ্ধ শুরুর পর থেকে নেতানিয়াহু সরাসরি সাংবাদিকদের মুখোমুখি না হয়ে কেবল রেকর্ড করা বিবৃতি প্রচার করে আসছিলেন। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের বড় একটি অংশ সরকারের এই লুকোচুরির সমালোচনা করে আসছিল। হোয়াইট হাউসের মতো ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কোনো নিয়মিত ব্রিফিং কাঠামো না থাকায় তথ্যের বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়েছে।

বর্তমানে সামরিক মুখপাত্র এফি দেফরিন নিয়মিত ব্রিফিং করলেও তিনি কেবল সামরিক অভিযান ও নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে কথা বলেন। সরকারের নীতিনির্ধারণী বা বেসামরিক সহায়তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সাধারণ মানুষের কাছে অজানাই থেকে যাচ্ছে। এই তথ্য শূন্যতা এবং নিজের ব্যক্তিগত মামলা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর অতি-তৎপরতা জনমনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

আঞ্চলিক প্রেক্ষাপট

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের ডামাডোলের মধ্যেই নিজের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে চাইছেন নেতানিয়াহু। যদি প্রেসিডেন্ট তাকে ক্ষমা করে দেন, তবে তিনি দীর্ঘমেয়াদে ক্ষমতায় টিকে থাকার রসদ পাবেন। তবে বিরোধী দলগুলো একে ‘যুদ্ধের সুযোগ নিয়ে বিচার এড়ানোর কৌশল’ হিসেবে দেখছে।