মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে চীন। সোমবার (২ মার্চ) চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এক ফোনালাপে তাঁর ইরানি সমকক্ষ আব্বাস আরাগচি–কে বেইজিংয়ের অবস্থান জানান।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম CCTV–এর বরাতে জানা গেছে, ওয়াং ই বলেন, চীন ইরানের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও জাতীয় মর্যাদা রক্ষার প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে। তিনি দুই দেশের ঐতিহ্যগত বন্ধুত্বের কথাও উল্লেখ করেন।
গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। এতে কয়েক শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে।
পাল্টা হিসেবে তেহরান ইসরায়েল, উপসাগরীয় দেশগুলো এবং সাইপ্রাস–এ অবস্থিত একটি ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটির দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
সিসিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, ওয়াং ই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে সংঘাত পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
এ ছাড়া একই দিনে ওমান–এর পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি–র সঙ্গে পৃথক ফোনালাপে ওয়াং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে যুদ্ধ উসকে দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, চীন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে শান্তি প্রতিষ্ঠায় গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত।
ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যাঁ-নোয়েল বারো–র সঙ্গে আলাপকালে ওয়াং সতর্ক করেন, বিশ্ব ‘জঙ্গলের আইনে’ ফিরে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। তাঁর ভাষায়, সামরিক শক্তির ভিত্তিতে অন্য দেশগুলোর ওপর একতরফা হামলা আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার জন্য বিপজ্জনক।
ওয়াং আরও বলেন, ইরানের পারমাণবিক ইস্যুর সমাধান শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পথেই খুঁজে নিতে হবে।
আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে চীনের এই অবস্থান আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
আপনার বিজ্ঞাপন এখানে