যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি পর্যালোচনার দাবি ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদদের
অর্থনীতি প্রতিবেদক | ঢাকা মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যচুক্তির শর্তগুলো দেশের স্বার্থবিরোধী এবং কঠোর বলে মনে করছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদেরা। আজ মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রি (বিসিআই) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তাঁরা নবনির্বাচিত সরকারের কাছে এই চুক্তিটি পুনরায় পর্যালোচনার জোর দাবি জানিয়েছেন।
চুক্তির কঠোর শর্ত নিয়ে উদ্বেগ
বিসিআই কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশের অর্থনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্কচুক্তির প্রভাব’ শীর্ষক সভায় বক্তারা বলেন, পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তী সরকার অত্যন্ত গোপনীয়তা ও তাড়াহুড়োর মাধ্যমে এই চুক্তিটি সই করেছে, যেখানে দেশের দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক স্বার্থকে যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি।
বিসিআই সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী তাঁর স্বাগত বক্তব্যে বলেন, "এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশি কোনো কোম্পানি যদি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রচলিত মূল্যের চেয়ে কম দামে পণ্য রপ্তানি করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র ওই কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারবে। এটি আমাদের রপ্তানি বাণিজ্যের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।"
বিশেষজ্ঞদের মতামত ও চ্যালেঞ্জ
সভায় দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদেরা চুক্তির বিভিন্ন নেতিবাচক দিক তুলে ধরেন:
উত্তরণে ৫ দফা পরামর্শ
ব্যবসায়ী নেতা ও অর্থনীতিবিদেরা এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় নতুন সরকারের জন্য কিছু সুনির্দিষ্ট পরামর্শ দিয়েছেন:
১. চুক্তিটি সংসদে বিস্তারিত পর্যালোচনার পর চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া।
২. একটি যথাযথ আইনি কাঠামোর মাধ্যমে আলোচনার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া।
৩. পরবর্তী আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কোনো পেশাদার আইনি প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করা।
৪. যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে ট্যারিফ সংক্রান্ত সম্ভাব্য সিদ্ধান্তগুলো পর্যবেক্ষণ করা।
৫. অংশীজনদের (Stakeholders) মতামতের ভিত্তিতে চুক্তির শর্তগুলো নমনীয় করার উদ্যোগ নেওয়া।
আলোচনা সভায় বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ফজলুল হক, র্যাপিড চেয়ারম্যান এম এ রাজ্জাক এবং পিআরআই-এর মোস্তফা আবিদ খানসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। তারা সবাই একমত হন যে, দেশের রপ্তানি বাজারকে সুরক্ষিত রাখতে এই চুক্তির আমূল পরিবর্তন বা সংশোধন প্রয়োজন।
আপনার বিজ্ঞাপন এখানে